নওগাঁর সাপাহারে “সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জোরদারকরণে আমাদের ভূমিকা” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাপাহার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করছে। এই সম্প্রীতির বন্ধনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা রক্ষা করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীল মনোভাব ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সাপাহার প্রতিনিধি তছলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, “সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের প্রত্যেককে ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। বিভেদ নয়, বন্ধন-এই চেতনায় সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি তরুণ প্রজন্মকে ঘৃণা ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে দূরে থেকে ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বলেন, “সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জোরদার করতে শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সংহতির বিষয়গুলো আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।”
আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মাহফুজ মাস্টার, ইসারুল হক, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল আহমেদ, সদস্য মরিয়ম বিবি, মোরশেদা পারভীন, শারমিন আক্তার ও আরো অনেকে।
সভায় বক্তারা জানান, বর্তমান সময়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার প্রত্যয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া