শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১২:২২
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৮:২৩

ঢাবির ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় ৬৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাবির ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় ৬৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ। এছাড়া ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে অস্ত্র ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে আরও ৪ জনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট এসব শিক্ষার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। 

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক এবং সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আরও দুজনকে ছয় মাস করে বহিষ্কার করা হয়। সাময়িক বহিষ্কৃত ১৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হবে। 

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গত বছরের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ জন শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ জনের মধ্যে ১৫ জনকে ওই বছরই স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। বাকি ৭২ জনের মধ্যে ৬৩ জন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হতে যাচ্ছে। অবশিষ্ট ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, প্রাথমিক জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ৮৭ শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ জনকে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছিলো। বাকি ৭২ জনের মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ জনকে ‘কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না’ জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রশ্ন। জালিয়াতদের আমরা ছাড় দেব না।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের চার শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসন আজীবন বহিষ্কার করে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২৭ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ নেই। গত বছরের অক্টোবর মাসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মারধরের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দুজনকে ছয় মাস করে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর বাইরে, শৃঙ্খলা পরিষদের উপ-কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৩১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক সাজা দেওয়া হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত/মাহবুব


আপনার মন্তব্য

close