পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য অপসারণের দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফের নেতৃত্বে বহিরাগতরা এ হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভিসির অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বহিরাগতদের একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর চেয়ারের আঘাতসহ হামলা চালায়।
হামলায় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক, কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দীনসহ একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা আহত হন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষীদের বিচার দাবি করেন। পরে বিকেলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন রিপন শরীফ জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে আহত শিক্ষক ড. মো. আতিকুর রহমান ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ক্যাম্পাসে ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল