শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৮

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মহলের ‘নৈতিক ভূমিকা’ চাই : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মহলের ‘নৈতিক ভূমিকা’  চাই : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের ‘নৈতিক ও যৌক্তিক ভূমিকা’ চাই। সরকারের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের ধারাবাহিক পরিণতিই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক স্থবিরতার প্রধান কারণ। এ জন্য সবার আগে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা হলেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য নির্বাচিত সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে নৈতিক ও যৌক্তিক ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিনের সমস্যাকে কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করতে না পারা নিঃসন্দেহে সরকারের চরম ব্যর্থতা। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এ সমস্যা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার এ সংকট নিরসনে সমান দায়িত্ব রয়েছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় না করে সম্পূর্ণ এককভাবে বাংলাদেশ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নাখোশ করেছে।  বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রোহিঙ্গা স্থানান্তরে ভাসানচর প্রকল্পটি মূলত সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ এর একটি বর্ধিত প্রকল্প। এ প্রকল্পটি বর্তমানে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত একটি মেগা প্রজেক্ট। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য প্রকল্পটিতে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পরে অন্যান্য প্রজেক্টের মতো প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে তা ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ রয়েছে। মির্জা ফখরুল হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এ প্রকল্প তথা সরকারের সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাইতে কিছু দলকানা সাংবাদিক দিয়ে ভাসানচরের আশ্রয় শিবিরের পক্ষে নানা ধরনের প্রচার প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। ভাবখানা এমন যে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোই যেন সংকট সমাধানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এটাই যেন আসল প্রত্যাবাসন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর