দেশের বেকার তরুণদের দক্ষ করে তুলতে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আয়মুখী কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৫০৫টি উপজেলায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৪০ জন তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিরা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক এ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এর মাধ্যমে গ্রামে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এতে অনেক তরুণ নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পাবে এবং শহরে যাওয়ার চাপ কিছুটা কমবে। এতে বদলাবে গ্রামীণ অর্থনীতি। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, প্রকল্পে বেকার জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ সরাসরি প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে। প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করা হবে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী। কোথাও কৃষি ও মাছ চাষ, কোথাও হস্তশিল্প বা পোশাক তৈরি, কোথাও মোবাইল মেরামত বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো কাজ শেখানো হবে। এ ছাড়া রান্না ও স্ট্রিট ফুড প্রস্তুত, দুগ্ধ ও পোলট্রি পালন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, পোশাক তৈরি, ব্লক ও বাটিক প্রিন্টিং, পর্যটন গাইডিং প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রাখা হয়েছে, যা প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পে অংশ নেওয়া অনেককে পরে আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করার লক্ষ্যও রয়েছে। তারা নিজেরাই ছোট উদ্যোগ শুরু করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে একটি পরিবারের একাধিক সদস্য কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। ফলে একটি পরিবারের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা দৈনিক ভাতা পাবেন, যা তাদের নিয়মিত অংশ নিতে উৎসাহ দেবে। পাশাপাশি বিধবা নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রশিক্ষণের মান এবং পরবর্তী সময়ে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণভিত্তিক উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, এর মান নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা কীভাবে আয়মুখী কাজে যুক্ত হচ্ছে, সেটি দেখাও জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও তারা কাজের সুযোগ পায় না। ফলে উদ্যোগের পুরো সুফল পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এর কার্যকারিতা বাড়বে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ এবং নিয়মিত পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে তরুণরা টিকে থাকতে পারবে। এতে গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং শহরে যাওয়ার চাপও কমবে।