মৃত ভাইয়ের নাম ধারণ করে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ বিছনদৈ গ্রামের আবদুল হাকিম ওরফে আদ্দু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর এই প্রতারণার মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনের অন্তত ৫০ একর জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা আত্মসাৎ ও দখলে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, প্রতারণার মাধ্যমে তিনি সরকারের নানান সুবিধাও ভোগ করছেন। তার বয়স যখন ৪০ তখন থেকে তিনি বয়স বেশি দেখিয়ে গত আওয়ামী সরকারের সময় বয়স্কভাতার কার্ড করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আর এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করে তার তিন ছেলে ও এক ভাতিজা। তার বড় ছেলে ইউসুফ আলী ও মেজো ছেলে ইসরাফিল আলম ও কথিত ভাতিজা জয়নাল হোসেন এসব দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে যায়, আবদুল হাকিমের বাবার নাম ছানের উদ্দিন। তিনি (ছানের উদ্দিন) বেঁচে থাকা অবস্থায় তার দুই ছেলে আবজাজুল হক ও আজগার আলী অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ছানের উদ্দিন মারা গেলে বাবা ও মৃত দুই ভাইয়ের সব সম্পতি দখল করেন আবদুল হাকিম। এ অবস্থায় হাকিমের আরও তিন বোন ও চার ভাই সম্পত্তির ভাগ চাইলে তিনি সম্পত্তি না দিয়ে বরং হুমকি-ধমকি দেন। পরে সেইসব সম্পত্তি বৈধ করার নামে ভোটার তালিকায় নাম পরিবর্তন করে মো. আবজাজুল হক ধারণ করেন। ২০১৭ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার নাম মো. আবদুল হাকিম। ভোটার নম্বর ৫২০১৭৫৮০০৯৪০। জন্ম তারিখ ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল। বাবার নাম ছানের উদ্দিন। সূত্র জানায়, স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসের স্টাফদের ম্যানেজ করে ২০১৭ সালে নিজের নাম আবদুল হাকিমের জায়গায় নাম পরিবর্তন করে আবজাজুল হক করেছেন। দুজনেরই ভোটার নম্বর ৫২০১৭৫৮০০৯৪০।
অভিযোগের বিষয়ে তার এক ভাগিনা মাহবুব খন্দকার জানান, তার মায়ের সম্পত্তির ভাগ চাইতে গেলে ভয়ভীতি দেখান। একাধিকবার এ ঘটনা ঘটেছে। আবদুল হাকিমের অন্য ভাই-বোন ও তাদের সন্তানরাও অভিযোগ করেছেন সম্পত্তির ভাগ চাইলে সন্ত্রাসী দিয়ে ভয় দেখিয়েছেন।