তীব্র পানি সংকটে রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। কোনো বাড়িতে কয়েক ঘণ্টার জন্য পানি আসছে, কোথাও আবার দিনরাত পানির দেখা মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে অনেককে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া কিংবা শৌচাগার ব্যবহারের মতো নিত্যদিনের কাজ চালাতে বাইরে থেকে পানি কিনতে হচ্ছে। আবার অনেকে দূরের এলাকা থেকে পানি আনছেন, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের বাসায়।
গত রবিবার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে জড়ো হয়ে এলাকাবাসী পানির জন্য বিক্ষোভ করেন। বালতি, জগ নিয়ে পানির জন্য রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এ ছাড়া শেওড়াপাড়ার শতাধিক বাসিন্দা বালতি ও বোতল নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করেন। তারা প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। পরে রাতের মধ্যে পানি দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সড়ক ছেড়ে দেন। মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মনিপুর ও ১১ নম্বর এলাকায় পানি না পেয়ে অতিরিক্ত দামে পানি কিনতে হচ্ছে মানুষকে। মেট্রোরেল চালুর পর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আশপাশে নতুন নতুন বহুতল ভবন হয়েছে। বেড়েছে ভাড়াটিয়া ও স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা। সেই সঙ্গে পানির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। এর মধ্যে সাভারের ভাকুর্তা পানি শোধনাগারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পানি মিরপুর এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ২০ জুন শোধনাগারের ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেয়। ওই দিন মাত্র ৭ কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়। পরের দুই দিন প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা হয়।