শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৫৪

কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)

মাওলানা মুহম্মদ জিয়াউদ্দিন

কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের  সঙ্গে রয়েছে কাবাঘর ও হজের সম্পর্ক। আল্লাহর নির্দেশে তিনি কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। জান্নাতের একটি পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি কাবাঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। এ পাথরটি প্রয়োজনসাপেক্ষে ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে ওপরে তুলে ধরত, আবার যখন তিনি নিচে কাজ করতেন তখন পাথরটি নিচে নেমে যেত। তাঁর পায়ের ছাপ এখনো পাথরের গায়ে দেখা যায়। হাজীরা মাকামে ইবরাহিমের পাশে দাঁড়িয়ে যে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন এই দুই রাকাত নামাজ হজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হজরত ইবরাহিম ও ইসমাইল আলাইহিস সালামের অক্লান্ত পরিশ্রমে কাবাঘর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়। কাবাঘর পুনর্নির্মিত হলে আল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে মাকামে ইবরাহিমে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ঘর কাবায় হজব্রত পালন করার বিশ্বব্যাপী উদাত্ত আহ্বান জানানোর জন্য আদেশ করেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে আল্লাহ! এই আহ্বান কি বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছানো সম্ভব?’ আল্লাহ প্রতি উত্তরে বললেন, ‘হে ইবরাহিম! তোমার এই আহ্বান পৃথিবীর সব প্রান্তে এবং আজ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যারা হজ পালন করবে, তাদের প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব আমার। তুমি শুধু আহ্বানকারী, আহ্বান করা তোমার কাজ।’ আল্লাহ সেই ডাক ওই সময়ের শুধু জীবিত মানুষই নয়, বরং যারা মায়ের গর্ভে, বাপের পৃষ্ঠ ও রুহ জগতে ছিল, যারা কিয়ামত পর্যন্ত এই দুনিয়ায় আসবে তাদের কানেও পৌঁছে দিলেন। আর এই ডাক যে যতবার শুনেছে, সে ততবারই আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার তাওফিক লাভ করবে। সেই দিনকার এই আওয়াজে যারা ‘লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্যেই আল্লাহ হজ লিখে দিয়েছেন।

ইসলামী দর্শনে হাজীদের কাবাঘর তাওয়াফ বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহর আদেশ পালনই তাঁ ইবাদত। কাবাঘর সত্যই বায়তুল মামুরের প্রতিকৃতি। সমগ্র মানবজাতির জন্য এটা এক বিশেষ ইবাদতখানা। অদৃশ্য আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অন্বেষায় আজীবন মানুষ কাবাকে কেন্দ্র করে ইবাদত করে, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে কাবা একটি যোগসূত্র, সেতুবন্ধ।

হজ পালনকারী যদি হজ সম্পন্ন করে ফিরে আসে তাহলে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করেছে এবং তাতে অশ্লীল কোনো কথা বলেনি বা অশ্লীল কোনো কাজ করেনি সে হজ থেকে (গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে) ফিরবে সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’ বুখারি, মুসলিম।

আসমানবাসীর জন্য বায়তুল মামুর আর জগদ্বাসীর জন্য কাবাঘর। কাবা আল্লাহর ইবাদত ও নৈকট্যের প্রতীক। কাবার দিকে মুখ ফেরালে বায়তুল মামুরের দিকে মুখ ফেরানো হয়। আর বায়তুল মামুরের দিকে মুখ ফেরালে আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানো হয়। তাই বিশ্বের সব মুসলমান উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম যে যেখানেই থাকুক না কেন প্রত্যেকেই কাবাকে কেন্দ্র করে কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ে। কাবার অলৌকিক আকর্ষণে দূর-দূরান্তের মোমিন বান্দারা জীবনের অর্জিত অর্থ ব্যয় করে আল্লাহর মুহ্বতে ছুটে যায় মক্কায় আল্লাহর ঘর কাবা তাওয়াফ করতে। আল্লাহ সদয় হয়ে যাদের ডেকে নেন, তারাই আল্লাহর ঘরে হাজির হওয়ার তাওফিক লাভ করেন, তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।

            লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক


আপনার মন্তব্য