বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

এস কে সিনহার সাজা

প্রমাণিত হলো কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

কোনো নাগরিকই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয় সে সত্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে ১১ বছর কারাদন্ড রায়ের মাধ্যমে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারকের দেওয়া রায়ে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তাকে ৪৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এ ছাড়া রায়ে তার অ্যাকাউন্টে অবরুদ্ধ থাকা ৭৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১৮২ পৃষ্ঠার রায়ে অর্থ পাচারের দায়ে সিনহাকে সাত বছর কারাদন্ড ও জরিমানা করা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের দায়ে চার বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির সাজার ঘটনা এই প্রথম। এ মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়কে তিন বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামি ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারীকে তিন বছর কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগের শীর্ষপদ। মর্যাদার দিক থেকে এ পদটি মহিমান্বিত। তবে স্বীকার করতেই হবে ভুলত্রুটি, লোভ-লালসার শিকার হতে পারে যে কোনো মানুষ। বিচারিক আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলেও উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত চলমান থাকবে। সে রায় যা-ই হোক একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং বিচারিক আদালতের রায় সবার জন্যই সতর্কবাণী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কোনো নাগরিকই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয় এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে উঠলে সেটিই হবে উত্তম।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর