জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদরের আংশিক) আসনটি। দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে থাকলেও গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগকারী রাশেদ খাঁনকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় শক্তিশালী ঘাটিটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
বিএনপিতে যোগদানের পরপরই কালীগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারা মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তবে ভোটের মাঠের চিত্র যতই দিন গড়াচ্ছে ততই বদলাতে থাকে।
স্থানীয় বিএনপির বড় একটা অংশের নেতাকর্মী এখন দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে রাশেদ খাঁনের সাথে একসাথে হয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। মূলত স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ ও বিএনপির প্রয়াত এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামান পপিকে এখন মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন রাশেদের অনুসারীরা।
কালীগঞ্জের মূল সমস্যা চাঁদাবাজি, মাদক, যাতায়াত, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ ভোটারদের মন জয় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তবে বহিষ্কারের পরও ফিরোজ নির্বাচনী মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশ নিয়ে তিনি ভোটের প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।
যদিও জেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে কারণে ফিরোজের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মানবেন, নাকি ফিরোজকে প্রাধান্য দেবেন সেটিই এখন তাদের কাছে মূল ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঠেকাতে না পেরে আসনটিতে শেষ পর্যন্ত কি হবে তা কেউ বলতে পাচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে জামায়াত প্রার্থী সুযোগ পেলেও পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
তবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানিয়েছেন, আমি সুখে-দুখে মানুষের পাশে ছিলাম। আগামীতে তাদের সাথেই থাকতে চাই। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে চাই।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, কালীগঞ্জের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ আমাদের পক্ষে। ফিরোজের পক্ষে গণজোয়ার দেখে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের সমর্থক ও ভোটারদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি আইকন। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা হবে গেম চেঞ্জার।
কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসাইন জানান, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা বিজয়ের দারপ্রান্তে আছে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা কর্মীদের ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত