শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪২

উন্নয়নে আরও সম্পৃক্ত হবে বিশ্বব্যাংক

আজ আসছেন প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়নে আরও সম্পৃক্ত হবে বিশ্বব্যাংক

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম আজ রাতে তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন। বাংলাদেশের সাফল্য পর্যালোচনা করা এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংককে আরও বেশি সম্পৃক্ত করাই তার এই সফরের উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন শেষ করে ঢাকায় আসছেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিম। ২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরত্ব তৈরির পর এটি হবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টের প্রথম ঢাকা সফর। অবশ্য এর আগে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশ্বব্যাংকের তখনকার প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংস্থাটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা এসেছিলেন ঢাকায়। এরপর একে একে ঘুরে যান পল উলফোভিত্জ ও জেমস উলফেনসন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে সেটি বিশ্ববাসীকে জানানোর পাশাপাশি কীভাবে অন্য দেশগুলো এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে পারে- সেটিই তুলে ধরতে ঢাকায় আসছেন কিম।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্যের হার মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে এ হার ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ। গত দুই দশকে বাংলাদেশের ২ কোটি লোক দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। এই সফর নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি, সেটা সরেজমিন দেখতেই তিনি বাংলাদেশে আসছেন। ঢাকা সফর নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম নিজেও উচ্ছ্বসিত। গতকাল এক বার্তায় তিনি বলেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশ প্রায় অর্ধেক কমিয়েছে। এটা একটা অসাধারণ সাফল্য। দারিদ্র্য বিমোচন কীভাবে করতে হয় অনেক দেশ বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখছে। বাংলাদেশে কীভাবে আরও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়- সেই পথ তৈরিতে আমরা আগ্রহী। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানব উন্নয়ন, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশে অনেক কাজ করার আছে।

জানা গেছে, এই সফরে কিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক কীভাবে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারে- সেটি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। অবশ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর বার্ষিক সম্মেলনে যেসব আলোচনা হয়েছে সেগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন নেই। এই সফরে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা ঋণ সহায়তা নিয়েও আলোচনা হবে না। তিনি বলেন, ১৭ অক্টোবর বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস হিসেবে পালন করছে জাতিসংঘ। গত বছর এ দিবসটি ঘানায় উদযাপন করেছিল বিশ্বব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে যে সাফল্য দেখিয়েছে সেটিকে স্বীকৃতি দিতেই এবার ওই দিবসটি পালন করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মূলত দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ যে বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে সেটি উদযাপন করতেই বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের এই ঢাকা সফর।

প্রসঙ্গত, কথিত দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে দেয়। পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ওই অর্থায়ন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করে নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের এই অবকাঠামো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটি খুব দ্রুতই সামলে নিয়েছে দাতা সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ সহায়তার পরিমাণও বাড়িয়েছে তারা। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সারা বিশ্বে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর আগে কখনো এক বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করেনি। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, অতীত ভুলে গিয়ে এখন সামনে এগোনোর দিন। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার সঙ্গী হয়েই থাকতে চায় সংস্থাটি। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যা করেছিল সেটি ২০১২ সালের ঘটনা। এরপর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে। তার কোনো প্রভাব এখন আর নেই। ওই সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

ঢাকায় যা যা করবেন কিম : আজ রাতে ঢাকায় নামার পর র‌্যাডিসন হোটেলে উঠবেন জিম ইয়ং কিম। আগামীকাল সকালে অর্থমন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বে বাংলাদেশ’ শীর্ষক পাবলিক লেকচারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার। এ পর্বের শেষে ‘প্রসপার বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করা হবে। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বরিশাল যাবেন কিম। ফিরে এসে একান্ত বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। বিকালে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিদায় নেবেন তিনি।


আপনার মন্তব্য