মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যদি কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি বাংলাদেশের এবং দেশের মানুষের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংসদের পক্ষ থেকে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং সংসদের সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। আমাদের দলের একটি স্লোগান হচ্ছে “বাংলাদেশ প্রথম”। আমি আমার অবস্থান থেকে দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার ও তা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে আমাদের কারও ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। যদি কোনো ভালো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটিও দেশের মানুষের অর্জন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদের সব সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। সেজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই সফরে দুই দেশের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রতিফলন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার যে নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করছে, প্রধানমন্ত্রী সেই অবস্থানকে আরও সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল গঠনমূলক সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বহুমুখী করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থনে তা গৃহীত হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সবাই টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান।