ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্বহাসামদিয়া দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা সুমন শেখ (১৮) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সুমন শেখ কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার মিলন শেখের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডের পিৎজা বিক্রি করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সংঘর্ষের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও আতাদি মহল্লা থেকে ১৭ জনকে আটক করেছে। সুমন হত্যার প্রতিবাদে গতকাল এলাকাবাসী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় আধা ঘণ্টার জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। অপরদিকে সুমনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার কিশোরদের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের উত্তেজনা চলছিল। রাত পৌনে ৮টার দিকে দুই পক্ষের শত শত লোক ঢাল-সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে অবস্থান নেয়। পরে তাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হলে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার পক্ষ পিছু হটে। পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার পক্ষ কুমার নদের সেতু পার হয়ে দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডে চলে আসে। এ সময় ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর হয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের বলেন, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সুমন শেখ নামক এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুমনের চাচাতো ভাই জিহাদ শেখ জানান, আহত সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার চোয়ালে গুলি লেগেছিল। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের কারণে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করা হয়। টিয়ার ষেল নিক্ষেপ করা হয়। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে সুমনের মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ছেলের জামা-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। বুধবার দুপুরে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এক স্ট্যাটাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, আত্মীয়, বন্ধু বুঝি না। কাইজ্জা, ফ্যাসাদ, খুন, খারাবি বা অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে।’