বরিশাল নগরীতে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জোরদার করা হয়েছে সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্যক্রম। জুনে এ পদ্ধতিতে ১৬৭টি মামলার নিষ্পত্তি করে ৪৫৭ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নিয়মিত সামারি ট্রায়াল পরিচালিত হচ্ছে। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বরিশাল সিএমএম আদালতের নাজির মো. কামরুল হাসান জানান, মহানগর দায়রা জজ মীর মো. এমতাজুল হকের নির্দেশনা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জহির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়ত উল্লাহ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিরাজুল ইসলাম রাসেল ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নূরুন নাজনীন সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করছেন। ফলে শুধু জুনেই ১৬৭টি মামলার নিষ্পত্তি করে ৪৫৭ অপরাধীকে সাজা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় জুনজুড়ে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এসব মামলায় আদালতের তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার ফলে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অপরাধ আরও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আদালত কর্মকর্তারা মনে করছেন, ছোট ও মাঝারি ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।