ব্রাজিল কিংবা নরওয়েকে শেষ ষোলো খেলেই বিশ্বকাপের মিশন শেষ করতে হবে। বেঁচে থাকার কোনো পথ নেই, এক দেশকে বিদায় নিতেই হবে। এখন কে টিকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে এ নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকরা হিসাবনিকাশ শুরু করে দিয়েছেন। ফিকশ্চারটাই এভাবে তৈরি করা হয়েছিল। ব্রাজিল ও নরওয়ে মরণফাঁদে পড়বে তা কে জানত। অথচ ভিনিসাসরা যদি গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্ব খেলতেন। তখন জয় পেলেও শেষ ষোলোতে এতটা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হতো না। ব্রাজিলের গ্রুপ থেকে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে মরক্কো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। থার্টি-টু রাউন্ডে জেতায় এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে। ব্রাজিলের সমর্থকরা হয়তো এ নিয়ে আফসোস করে বলতে পারেন, গ্রুপ রানার্সআপ হলেই তো ভালো ছিল। না মরক্কো আবার নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে হারিয়ে রাউন্ড সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে।
আসলে খেলার ছক করা থাকে আগে থেকেই। এখানে গ্রুপ পর্ব ছাড়া কে কার প্রতিপক্ষ হবে তা তো বলা যায় না। বিশ্বকাপ মানেই তো বিশ্ব লড়াই এখানে প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়াটা বেমানান। সুতরাং ছকেই বন্দি হয়ে গেছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। হারলেই বিদায়, বিকল্প কোনো পথ নেই। তবে ভিনিসাস ও আরলিং হল্যান্ডের এমন লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়াটা ফুটবলপ্রেমীদের পীড়াও দিচ্ছে। কেননা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে দুজনায় ভালোভাবে টিকে আছেন। হল্যান্ডের পাঁচ আর ভিনিসাসের গোল চারটি। মেসির ও এমবাপ্পের মতো তাদেরও গোল্ডেন বুট জেতার সামর্থ্য রয়েছে। বেদনাটা এখানেই। যেকোনো একজনকে সরে যেতে হবে। টপ সিক্সটিন খেলে তো আর গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল কোনোটাই জেতা সম্ভব না। অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলে সেই আশা টিকে থাকত।
কথা হচ্ছে কে বিদায় নেবেন হল্যান্ড না ভিনিসাস? এই পর্যায়ে এসে এমন তারকার বিদায় নেওয়াটা ভক্তদের কাঁদাবে। আফসোস আর আবেগে তো কোনো কাজ হবে না। বিশ্বকাপ চলবে বিশ্বকাপের গতিতে। ৬ জুলাই দুই দেশ টিকে থাকার ম্যাচে লড়বে। যাকে বলা হয় প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। যারা রাউন্ড সিক্সটিনে হেরে যাবে তাদের আর পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে না। প্লেনে চড়ে দেশে ফিরে আসতে হবে। পিছিয়ে থাকা ম্যাচে জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিল শিবিরে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। হেক্সা জয়ের সুখ ভাবনা পেয়ে বসেছে তাদের।
স্বস্তিতে থাকা ব্রাজিল সমর্থকরা আবার দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন। কেননা নকআউট পর্বে এবার প্রতিপক্ষ যে নরওয়ে। যে দেশ বিশ্বকাপই খেলেছে হাতেগোনা কয়েকবার আর সর্বোচ্চ প্রাপ্তি বলতে এবার নিয়ে তিনবার প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। তাহলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শঙ্কা বা ভয়টা কিসের? আইভরি কোস্টকে হারানোর পরই ব্রাজিল ভক্তরা নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখতে শুরু করেন। মূলত সেখান থেকে তৈরি হয়েছে ভয়। কেননা ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত নরওয়েকে হারানোর রেকর্ড নেই ব্রাজিলের।
বিশ্বকাপসহ চারবার দুটি দেশ মুখোমুখি হলেও নরওয়ে দুই জয় আর বাকি দুটো ড্র হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার নিয়ে নরওয়ে ও ব্রাজিল দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হবে। ১৯৯৮ সালে যে আসরে ব্রাজিল রানার্সআপ হয়েছিল সেবার গ্রুপ ম্যাচে ব্রাজিল ১-২ গোলে হার মানে নরওয়ের কাছে। ১৯৯৭ সালে প্রীতি ম্যাচে নরওয়ে ৪-২ গোলে হারায় ব্রাজিলকে। ১৯৮৮ ও ২০০৬ সালে বাকি দুই প্রীতি ম্যাচ ১-১ ড্র ছিল। ভয়টা কেন তা তো পরিষ্কার হলো। এবার যদি নরওয়ে জিতে যায় তাহলে গড়বে ইতিহাস। প্রথমবারের মতো খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল।
ব্রাজিল আগের দুই আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেই বিদায় নিয়েছিল। এবার কি তাহলে প্রি-কোয়ার্টার খেলেই বিদায়? ব্রাজিল এখন পর্যন্ত যা খেলছে তাতে কি তা বোঝায়। আবার নরওয়ের যে পারফরম্যান্স তাতে ব্রাজিলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে কি? আসলে এভাবে শক্তির বিচার করা যায় না। তা না হলে প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি হারে কীভাবে? কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি বলে ব্রাজিল ভয় পাচ্ছে তা মানে হয় না। তবে যোগ্য প্রতিপক্ষ ভাবছে এটা ঠিক। নরওয়ে হারলে বিশ্বকাপের উন্মাদনা ঠিকই থাকবে। ব্রাজিল বিদায় নিলে অর্ধেকেই শেষ। কী হবে বলা কঠিন।