বর্ষার প্রথম দিন থেকে ভারী বর্ষণে ডুবছে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। স্কুল-কলেজ, কোচিং থেকে বাড়ি ফিরতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাস ও নিচ তলার ফ্লোর। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসক, রোগী ও তাদের স্বজনরা। সরেজমিন দেখা যায়, স্টেডিয়াম সড়কে পানিতে বিকল হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন যানবাহন। স্টেডিয়াম মার্কেটের কিছু দোকানে পানি ঢুকে পড়ায়, ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর চেষ্টা করছেন। লাকসাম রোডে পানি জমায় ২০ টাকার ভাড়া সিএনজি অটোরিকশা ৩০ টাকা নিচ্ছে। জলাবদ্ধতায় সালাউদ্দিন মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ছিল। মাইক্রোবাস চালক মো. রনি জানান, সোমবার বিকালে লাকসাম থেকে বৃষ্টির মাঝে গাড়ি নিয়ে ফিরছি। টমছম ব্রিজে এসে দেখি লাকসাম রোডে জলাবদ্ধতার কারণে যানজট।
গাড়ি ঘুরিয়ে হালুয়াপাড়া চর্থা হয়ে মহিলা কলেজ রোডে প্রবেশের চেষ্টা করি। কিন্তু পানি বেশি হওয়ায় চর্থা চৌমুহনীর পরে একটা সড়কে প্রবেশ করি। সেখান থেকে দারোগাবাড়ি সড়কে প্রবেশের চেষ্টা করে আবার ফিরে আসি। শেষে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে নানুয়ার দিঘিরপাড় রাজগঞ্জ হয়ে শহরে প্রবেশ করি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, অল্প বৃষ্টিতে নগরী প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। এতে নগরজীবনে ভোগান্তি নেমে আসছে। তবে আশার কথা, পানি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের সংকট দূরে তাৎক্ষণিক তদারকি করার কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কুমিল্লার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম মনজুর হোসেন বলেন, মাত্র বর্ষা শুরু হলো। এখনই এ অবস্থা। এই দুরবস্থা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, বৃষ্টিতে হাসপাতালের ক্যাম্পাসের সঙ্গে নিচ তলার ফ্লোরও ডুবে গেছে। কোথাও হাঁটুর ওপরে পানি জমেছে। পাশের ড্রেনগুলো সংস্কার করা হলে চিকিৎসক, হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীদের দুর্ভোগ কমবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, পানি সরানোর জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছি। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করেছি। এ ছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে আমরা কিছু কাজ করেছি, আরও কাজ করব। ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলরের সংকটে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সময় লাগছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।