১২২ বছরের প্রাচীন শতবর্ষী লাইব্রেরি। সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। আছে প্রায় ৪০ হাজার বই। রাখা হয় ২২টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা। আছে দুর্লভ বই। আছে প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। তাকে তাকে সাজানো বই। সংরক্ষিত আছে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগের দুটি দুর্লভ এবং ১০০ বছরের বেশি পুরোনো প্রায় ৩০০ ঐতিহাসিক বই। দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহের জন্য আছে পৃথক কক্ষ। প্রাচীন ইতিহাস ও ব্রিটিশ-ভারতের অনেক দুর্লভ দলিলের জীবন্ত সংগ্রহশালার নাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মাহবুব উল আলম চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি।
এত কিছু থাকার পরও পাবলিক লাইব্রেরির প্রাণ পাঠকই কম। শতাধিক পাঠক একসঙ্গে বসে বই পড়ার সুবিধা আছে। কিন্তু এখানে গড়ে পাঠক আসেন মাত্র ২০-২৫ জন।
চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘির দক্ষিণপাড়ে অবস্থিত গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯০৪ সালে। চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম ভবনে ‘চিটাগাং মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরি’ নামে যাত্রা শুরু করে। এটি চট্টগ্রামের প্রথম গ্রন্থাগার। ১৯২৩ সালে গ্রন্থাগারটি আন্দরকিল্লা থেকে লালদীঘির দক্ষিণপাড়ে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ সালে শতবর্ষী-ঐতিহাসিক পুরোনো তিন তলা ভবন ভেঙে আট তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাঠকদের অভিযোগ, গ্রন্থাগারে আপডেট বই পাওয়া যায় না। দুর্লভ বই থাকার কথা বলা হলেও অনেক বই পাওয়া যায় না। ক্যাটালগ নেই। দুপুর পর্যন্ত পাঠাগার খোলে না। কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা থাকায় পাঠকের আগ্রহ কম। লাইব্রেরির বাইরের ভবঘুরে মানুষ নষ্ট করে পরিবেশ। চসিক পাবলিক লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক কৃষ্ণ কমল সেন বলেন, প্রাচীন এই লাইব্রেরিতে নানা সুযোগ-সুবিধা আছে। প্রায় ৪০ হাজার বই, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন আছে। তবে আশানুরূপ পাঠক নেই। কার্যত রেফারেন্স লাইব্রেরি হিসেবেই এই পাঠাগারের ব্যবহার বেশি। এখন নতুন করে কিছু বই ও গবেষণা গ্রন্থ সংগ্রহের একাটি তালিকা করা হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে সুপেয় পানির। তরুণ পাঠকদের জন্য করা হয়েছে পৃথক রুম। পাঠকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য আরও নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, শুক্র-শনিবার ও সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং শীতকালে বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ঘণ্টা খোলা থাকে গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারের প্রতি তলার আয়তন চার হাজার বর্গফুট। লাইব্রেরির চেয়ার-টেবিল ও টাইলস করা মেঝের পরিবেশ অনেক সুন্দর। এখানে আছে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার রাজধানী কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রাচীন সরকারি গ্যাজেট, গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকী, পুরোনো সংবাদপত্র ও অফিশিয়াল প্যাটেন্ট নথির মূলকপি। আছে ইতিহাস, ধর্ম, সাহিত্য-সংস্কৃতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, মেডিকেল বিজ্ঞান, পুঁথি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন দুর্লভ গ্রন্থ। তবুও পাঠক খরায় ধুঁকছে প্রাচীন এ লাইব্রেরিটি।