রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানির মোড় থেকে সাতমাথা মাহিগঞ্জ যাওয়ার পথে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে হাতের পশ্চিমে একটি গ্রাম রয়েছে। গ্রামটির নাম তাঁতিপাড়া। চার দশক আগেও তাঁতিপাড়া এবং পার্শ¦বর্তী গ্রাম বালাটারি তাঁতের খুটখাট শব্দে মুখর থাকত। এখন সেই তাঁতও নেই, তাঁতিও নেই।
ইতিহাসের সাক্ষ্য হতে গ্রামের নামটি রয়ে গেছে তাঁতিপাড়া। সিটি করপোরেশনের অন্যতম পরিচিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা তাঁতিপাড়া।
ঐতিহ্যগতভাবে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত এলাকার নামানুসারে এর নামকরণ হলেও বর্তমানে এটি একটি জনবহুল এলাকা। প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত এই এলাকায় সুতি শাড়ি ও গামছা তৈরি হতো। সেই শাড়ি ও গামছা স্থানীয়ভাবে বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠানো হতো। মাঝারি ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৬ সালের পর থেকে এই শিল্প বিলুপ্ত হতে থাকে। স্বাধীনতার পরে রংপুরের তাঁতশিল্প দেখতে একাধিক মন্ত্রী ও আমলা এসে এই শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁতশিল্পের কাঁচামালের অভাব, দেশের অন্য স্থানের শাড়ি-গামছার সঙ্গে প্রতিয়োগিতায় টিকতে না পেরে এই শিল্পটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।
মাহিগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি বাবলু নাগ তাঁতিপাড়া এবং বালাচারির তাঁতশিল্প প্রসঙ্গে বলেন, এক সময় তাঁতিপাড়া ও আশপাশ এলাকা তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। এই এলাকায় ১৫০ জনের বেশি তাঁতি ছিলেন। পাঁচ শতাধিক তাঁতের খুটখাট শব্দে মুখর ছিল তাঁতিপাড়াসহ পাশের বালাপাড়া। ১৯৭৬ সাল থেকে তাঁতি এবং তাঁতের সংখ্যা কমতে থাকে।
এক সময় তাঁতশিল্পের বিলুপ্ত ঘটে। এসব এলাকা এখন ঘনবসতি হয়েছে। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই আশির দশকের পরে এখানে বসবাস শুরু করেন। এই এলাকায় তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন বাসিন্দা এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
জানা গেছে, রংপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৬৫ সালে এবং রংপুর শহর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৬৯ সালে। ১৮৯০ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন ডিমলার জমিদার রাজা জানকীবল্লভ সেন। ২০১২ সালে ২০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠন করা হয় সিটি করপোরেশন।