কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া-কৈলাইন সড়ক। এ সড়কের ১২ কিলোমিটার বেহাল আছে প্রায় এক দশক ধরে। ১০ মিনিটের এ পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় ১ ঘণ্টা। সময় নষ্টের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তিন উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষ। পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া। দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এ সড়কে চান্দিনা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটির মানুষ চলাচল করেন। এ ছাড়া সড়কটির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে কুমিল্লার বরুড়া ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মানুষের চলাচল।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার। মাধাইয়া থেকে কৈলাইনের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। মাধাইয়া বাজার থেকে ভাঙা সড়ক শুরু। ২০ কিলোমিটারে উল্লেখযোগ্য বাজার রয়েছে মহিচাইল, রসুলপুর, নবাবপুর ও কৈলাইন। নবাবপুর পর্যন্ত দুই হাত জায়গাও স্বভাবিক নেই। সড়কের খানাখন্দ দিনদিন বড় হচ্ছে। কোনটির গভীরতা দুই ফুটে ছাড়িয়েছে। গাড়ি চলে হেলেদুলে। শুকনো সময়ে সেখানে ধুলাবালি উড়ে, বর্ষা মৌসুমে হয় চাষের জমি। বিভিন্ন বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্থানীয় দোল্লাই নবাপুর ডিগ্রি কলেজ, জামিরাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, মহিচাইল হাই স্কুল, মহিচাইল কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছেন। এক দশক ধরে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী এ সড়ক নিয়ে কথা বলতেও এখন আগ্রহ হারিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম, মেহেদী হাসান ও পায়েল বলেন, মাধাইয়া থেকে রানীচড়া পর্যন্ত বেশি ভাঙা। যাতায়াতে খুক কষ্ট হচ্ছ। নেতা আসে নেতা যায় কিন্তু সড়কের উন্নয়ন হয় না। ১২ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই খারাপ। পিকাপভ্যান চালক খোরশেদ আলম, জামাল উদ্দিন ও অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, রাস্তাটির অবস্থা গাড়ি চালানোর মতো নয়। এক দিন বেয়ারিং ভাঙে তো আরেকদিন এক্সেল ভাঙে। প্রতিদিন একটা না একটা দুর্ঘটনা ঘটে। সারা দিনে ভাড়া পাই ১৫০০ টাকা। একটা স্প্রিং ভাঙলে লাগে ৩ হাজার টাকা। ১০ মিনেটের রাস্তা এক ঘণ্টার কমে পার হওয়া যায় না। চান্দিনা উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অবস্থা খারাপ। কিছুদিন আগে সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে। কিছু অংশে কাজও শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারব।