শিশুদের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার চালু করেছে কোটি কোটি টাকার ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির খাবার নিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হচ্ছে পচা ডিম, ছত্রাক ধরা পাউরুটি ও নিম্নমানের দুধ। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে চলছে এ অনিয়ম।
জানা যায়, গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ শিক্ষার্থীর জন্য আওতায় সপ্তাহভিত্তিক পাউরুটি, ডিম, কলা, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত পচা ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিতরণের জন্য রাখা কয়েকটি ডিম ভাঙতেই বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। কোনো কোনো ডিমের কুসুম কালচে হয়ে গেছে। কয়েকটি পাউরুটিতে দেখা যায় ছত্রাক। পরে সেগুলো শিক্ষার্থীদের না দিয়ে আলাদা রাখা হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, এমন ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই পচা ডিম ও নিম্নমানের খাবার আসে। দুধেও অনেক সময় অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে। শিক্ষার্থী হাবিবা পলি জানায়, ডিম ভাঙতেই দুর্গন্ধ বের হওয়ায় ফেলে দিয়েছি। দুধ খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী সুমন মল্লিকের অভিযোগ, অনেক ডিমের ভিতরে রক্ত থাকে, আবার ডিম পচাও পাওয় যায়। এগুলো আমরা খেতে পারি না। অভিভাবক ফরিদা ইসলাম বলেন, সরকার ভালো উদ্দেশ্যে খাবার দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। পচা ডিম খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমরা নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার চাই। বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, মাঝেমধ্যে খাবারের মান খারাপ থাকে। কয়েকদিন পাউরুটিতে ছত্রাক পাওয়া গেছে। সেগুলো এতটাই নষ্ট ছিল যে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি। গবাদিপশুও খায়নি। অধিকাংশ সময় কিছু ডিম পচা থাকে। দুধে মাঝেমধ্যে পোকা পাওয়া যায়। বিষয়টি একাধিকবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’-এর এরিয়া ম্যানেজার সুমন আলী বলেন, আমরা ১৬২টি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করি। কোথাও অভিযোগ পেলে নষ্ট ডিম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। অনেক বিদ্যালয়ে খাবার সংরক্ষণ করে পরদিন বিতরণ করে। এতে খাবার নষ্ট হলে তার দায় আমাদের ওপর আসে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।