হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে খুদে শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছাদসহ দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা। কোথাও পিলারের লোহার রড বের হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ব্যাহত হয় পাঠদান কার্যক্রম। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টিতে দিগলবাকসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। স্কুল ভবনের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। শিক্ষার্থীরা স্কুলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেতে চাচ্ছে না। ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরাও থাকেন আতঙ্কে। পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ক্লাসে বসে পড়াশোনা করা যায় না। ছাদের রড দেখা যায়। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়।
সহকারী শিক্ষক কাকুলী রানী চৌধুরী বলেন, স্কুল ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি রুমে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। বৃষ্টির দিনে ক্লাস করানোই দায়। প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করে যাচ্ছি, কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে দুর্ঘটনার শঙ্কার সঙ্গে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ছাদ ধসে পড়ছে, বিম ও কলামে ফাটল রয়েছে। নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।