চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই জমে উঠছে। প্রতীক বরাদ্দের পর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। শুধু প্রার্থীরাই নন, তাদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কোথাও সাবেক মন্ত্রী বাবা ছেলের জন্য ভোট চাইছেন, আবার কোথাও বাবার জন্য মাঠে নামছেন সন্তান। এ যেন নির্বাচনী প্রচারণায় এক ভিন্ন আমেজ।
প্রার্থীদের স্বজনদের সক্রিয় উপস্থিতিতে ডোর টু ডোর প্রচারণা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন তার বাবা, সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। প্রতীক বরাদ্দের পর বাবা-ছেলে একসঙ্গে মঞ্চে উঠে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে দৃষ্টি কাড়েন। পাশাপাশি ব্যারিস্টার মীর হেলালের স্ত্রী নওশীন আরজান হেলালও প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, মীর হেলাল নির্বাচিত হলে হাটহাজারীর প্রতিটি গ্রামের সমস্যা, বিশেষ করে নারী সমাজের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন তার ছেলে ইসরাফিল খসরু। মনোনয়ন না পেলেও বাবার পক্ষে গণসংযোগে সক্রিয় ইসরাফিল মঙ্গলবার নগরীর দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালান। তিনি বলেন, ধানের শীষ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন তার স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলা ও মেয়ে মেহরীন আনহার উজমা। চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর জন্য মাঠে রয়েছেন তার মা, স্ত্রী, ভাই ও বোন। তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজামের পক্ষে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে মাঠে নেমেছেন তার স্ত্রী নাজনিন নিজাম। একই সঙ্গে তার ছেলে শাহওয়াজ জামাল নিজাম সনিও আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপির ওমর ফারুকের পক্ষে ভোট চাইছেন তার বাবা, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
তবে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের তেমনভাবে ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক