গোপালগঞ্জে রাতের আঁধারে স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুলের ফুটবল প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বালিয়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে জলিরপাড় ব্রিজ পর্যন্ত এবং গোপালগঞ্জ-০১ আসনের ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের দুই পাশসহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ-০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুলের ছোট ভাই মো. তরিকুল ইসলাম সজল মঙ্গলবার (গতকাল) দুপুরে গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রাফুল আলম শিমুল মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি সামাজিকভাবে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বাঁশের চাটিতে টাঙানো ফুটবল প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন পরিকল্পিতভাবে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে প্রচার মাইক বাজাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এসব ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেছে। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা এই কাজ করছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড তাদের বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদ আশিক কবির বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারীকে বিষয়টি দায়িত্বরত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা তথা সিনিয়র সিভিল জজের কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি।
দায়িত্বরত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সিভিল জজ মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সার্বিক বিবেচনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্য গ্রহণ, জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল