শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০২০ ১৩:২৯
আপডেট : ৩০ জুন, ২০২০ ১৩:২৯

ধনী-নিম্নবিত্ত-গরিব, কে পরিযায়ী কে অপরিযায়ী

জয়ন্ত ঘোষাল

ধনী-নিম্নবিত্ত-গরিব, কে পরিযায়ী কে অপরিযায়ী
বাপি দাস

ওর নাম বাপি। বাপি দাস। ও এক নন রেসিডেন্ট বাঙালি অসংগঠিত শ্রমিক।

৮৩ সালে কলকাতা থেকে পালিয়ে দিল্লি চলে আসে। বাড়ি ছিল লিলুয়া। স্টেশন এর কাছে। প্রাচী সিনেমার কাছে বাবার নিজের দোকান ছিল। হোলসেল কাপড়ের দোকান। এখন সে দোকানটাও নেই। বিক্রি হয়ে গেছে।

এখন চিত্তরঞ্জন পার্কে এক নম্বর বাজারে ও এটা সেটা বিক্রি করে। না। ওর নিজের কোনো আলাদা দোকান নেই। রাস্তার ধারে ও সব জিনিস নিযে বসে। মাথার অপর কোনো ছাদ নেই। কী গ্রীষ্ম কী শীত এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ও বড়ি , কলকাতার চানাচুর, আম অথবা তেতুলের আঁচার এসব বিক্রি করে।

বাপির সঙ্গে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব। ওর কাছ থেকে ওর জীবন সংগ্রামের গল্প শুনি। ছোট বেলা থেকে ও দেখছে মোটা মোটা কাপড়ের রোল। বাবার নিজের দোকান ছিল। ভাড়া নয়। ওরা দুই ভাই। দাদা বাবার ব্যবসা দেখতো কিন্তু বাপি আশির দশকে ছাত্র জীবনে হয়ে গেলো কমিউনিস্ট। না নকশাল নয়। ও হলো সিপিএম।

সিপিএম দাদাদের পাল্লায় পড়ে বোমা বানাতে শিখলো। আরো অনেক কিছু। হাওড়ায় বামুনগাছি ব্রিজ এর নিচে ছিল ওদের ডেরা।

বাড়িতে ছেলে প্রায় ফেরেই না। বাবা কার্যত ত্যাজ্য পুত্র করলো। বিপদে আপদে পড়লে যেত সুভাষ চক্রবর্তীর কাছে। তার পর একদিন পালিয়ে চলে এলো দিল্লি |

শুরু হলো এক নতুন জীবন নতুন লড়াই। নানা রকমের জীবিকার সন্ধান। তার পর এই দোকান।পুলিশ আসে পয়সা নিতে। আবার পুরসভার ইন্সপেক্টর রা আসে। পয়সা দিতে দিতে জেরবার। আবার মাঝে মাঝে হাল্লাবোল। এসে ওরা ভেঙে দিয়ে যায় অস্থায়ী দোকান।

এবার কোরোনার জন্য দু মাস বাজার বন্ধ ছিল। বাড়ি তে থাকতো। বেরোত না। মা লক্ষ্মীও অদৃশ্য ছিলেন।
বাপি বলছিলো দু মাসে শেষ হয়ে গেছি।

দিল্লি এসে বাপি বিয়ে করেছিল সুস্মিতা কে। কলেজ স্ট্রিট এর মেয়ে। বাপির এটা একটা অহংকার যে সুস্মিতা লেখা পড়া জানে। সুস্মিতা সন্ধ্যায় এসে ওর দোকান সামলায়। কখনো কখনো মেয়েটাও এসে বাবা কে সাহায্য করে।

কোরোনার পরেও এত হতাশা তবু বাপি মেয়েকে বলে এসব কাজ করিস না। তুই কম্পিউটার চালাতে পারিস, লেখা পড়া করছিস।

তুই থামিস না বাবা, আমি তো আছি।

আমরা এক আশ্চর্য সমাজে বাস করি। ধনী-নিম্নবিত্ত-গরিব, কে পরিযায়ী কে অপরিযায়ী!

সামাজিক বৈষম্য এখানে সর্বজনগৃহীত। একে বলে শ্রেণি সমন্বয় ? নাকি social Darwinism ?

 লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর