শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ১০:২০

এরকমই হয়, এরকমই হবার কথা ছিল!

ডা. মো. আবুল হাসনাত মিল্টন

এরকমই হয়, এরকমই হবার কথা ছিল!
ডা. মো. আবুল হাসনাত মিল্টন

সকালে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং ছিল। স্নান সেরে, বাচ্চাদের রেডি করে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে পরিপাটি পোষাকের সাথে নীল রংয়ের টাই পরে ল্যাপটপের সামনে বসতেই অজানা নম্বর থেকে ফোন। মিটিংটা আজ নয়, আগামী সপ্তাহের কোন এক দিন হবে। পরে দিনক্ষণ জানিয়ে দেবে।

বুঝতে পারছিলাম না, মেজাজ খারাপ করবো কি না? অথচ আরেক মন বেশ ফুরফুরে মেজাজে বললো, যাই, মার্কেটে ঘুরে আসি। শপিং আমার পছন্দের তালিকায় ছিল না কখনো, তবু কেন জানি আজ মনে হলো যাই, ইচ্ছেমত শপিং করে আসি। সাথে আইফোন বারোর প্রো মোবাইল সেটের অফার তো আছেই। কিনে এনে কায়দা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া যাবে। শপিং কমপ্লেক্সে কার পার্কে গাড়ি থামিয়ে নূপুরজানকে ফোনে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার জন্য কী কিনবো? আজ শপিংয়ের মুডে পেয়েছে। নূপুরজান একটু অবাক হলো, বললো ওর জন্য কিছু লাগবে না। 

প্রথমেই গেলাম মায়ারে। আমাদের শপিং কমপ্লেক্সে মায়ার অন্যতম অভিজাত একটা দোকান। এখানকার ক্রেতাগুলোর দিকে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, সবগুলো সম্ভ্রান্ত, সুন্দর। ঢুকেই অভ্যাসবশত ‘সেল’ সাইন খুঁজলাম। অনেক খুঁজে এক কোনায় সেলে কয়েকটা টি শার্ট আর শার্ট পেলাম, সাথে কিছু শীতবস্ত্র। সেলের পরেও দাম খুব একটা কম না। তবে এগুলোর যা অবস্থা, মাগনা দিলেও নেবো না। 

এবার গেলাম ব্রান্ডের টিশার্টের সামনে। সারি সারি সব দামী ব্রান্ডের সদ্য আনা ঝকঝকে টিশার্টগুলো যেন আমারি অপেক্ষায় ছিল। প্রাইস ট্যাগ কোথায়? ঠিক মত খুঁজে পাচ্ছি না কেন? অবশেষে পেলাম, কিন্তু পাবার পরে মনে হলো, কেন পেলাম? একেকটার দাম একশ থেকে আড়াইশ ডলার। মুহূর্তে আমার শপিংয়ের সব আকাঙ্খা কর্পুরের মত উবে গেলো।

বেরিয়ে মোবাইলের দোকানে গেলাম। আই ফোন বারো প্রো, বেশ স্লিম। কাঁচের ভেতর থেকে কালো আর সোনালী রঙের মিশ্রনে দারুণ লাগছে। হঠাৎ মনে বৈরাগ্য উদয় হলো। আমার কেন বারো প্রো লাগবে? আই ফোন টেনটাই তো খুব ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। কিছু পেলেই কি নিতে হবে? প্রয়োজন আছে কি নেই সেটা কোন ব্যাপার না? অফারটা ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত আছে। পরে না হয় ভেবে দেখা যাবে। 
হাতে এখনো ঘণ্টাখানেক সময় আছে। মোবাইলের দোকান থেকে মনে হলো ফুড কোর্টে যাই। চিপস আর কোক নিয়ে অপর্ত্যের কোয়ার্টার চিকেন খাই। অনেকদিন বাসার বাইরে কোথাও একা বসে খাই না। সকালেও তাড়াহুড়ার কারণে নাস্তা করা হয় নি। বাচ্চা দুটোর কথা মনে হলো। পার্থিব আবার আজকাল অপর্ত্যের গ্রীলড চিকেনের খুব ভক্ত। দোকানে তেমন ভীড় নেই। লাইনে দাঁড়াতেই কিছুক্ষণের মধ্যে তরুণী সেলসগার্লের ডাক। আমার অর্ডার শুনে বললো, ‘সরি, সব চিকেন শেষ হয়ে গেছে। আধাঘণ্টা পরে আবার আসবে। তুমি চাইলে তখন আসতে পারো’। আমি বললাম, আমি অপেক্ষা শেষে আধাঘণ্টা পরে আবার আসবো।

এখন একটা সিনেমা হলের সামনে বসে ভাবছি, ঠিকই তো। এরকমই তো হবার কথা ছিল। এরকমই তো হয়েছে সারাজীবন।
তার চেয়ে বরং যাই। সেরিয়াল, কিচেন টাওয়েলসহ প্রয়োজনীয় টুকটাক জিনিষপত্রগুলো কিনে বাসায় যাই। মনের উপর কোভিডের প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণার ডাটাগুলো চলে এসেছে। অর্ধেক এনালিসিস করেছি, বাসায় গিয়ে বাকিটা শেষ করি।
দু:খ-কষ্ট, অক্ষমতা আর বৈরাগ্যে ভেজা জীবনটা আসলেই অনেক সুন্দর! চিয়ার্স!

৩০ অক্টোবর ২০২০
চার্লসটাউন শপিং কমপ্লেক্স
নিউক্যাসেল, অস্ট্রেলিয়া।


(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর