শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৫২

অর্থনীতির মন্দাভাব কাটাতে ব্যাংকিং সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ

রুহুল আমিন রাসেল

অর্থনীতির মন্দাভাব কাটাতে ব্যাংকিং সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ

দেশের অর্থনীতির মন্দাভাব কাটানোর পথে ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। স্বনামখ্যাত এই অর্থনীতিবিদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা নেই। সুদহারে অনিশ্চয়তা। সহজে ঋণ পাচ্ছেন না   

ব্যবসায়ীরা। ফলে নেই বিনিয়োগ। এসব কারণে অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির মন্দাভাব কাটানোর জন্য সরকারের জরুরি করণীয় নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সাবেক গভর্নর। তার মতে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা সমাধান করতেই হবে। দেশে অর্থনৈতিক মন্দাভাবের বড় কারণ হলো বিনিয়োগ কম হওয়া। আর বিনিয়োগ হচ্ছে না ব্যাংক সুদের চড়া হারের কারণে। তাই এখন সবাই অপেক্ষা করছেন আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য। এই বাজেটে বিনিয়োগের জন্য কী নির্দেশনা আসছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে প্রাজ্ঞ এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ডুয়িং বিজনেস ইস্যু এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালন খরচ অনেক বেশি। তারপর ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে যেসব সেবা প্রয়োজন হয়, তা পেতে ভোগান্তিতে পড়েন নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা। এখনই সব সেবা একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। সব মিলিয়ে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। এর সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ছাড়া শিল্প সম্ভব নয়। এত দিন গ্যাসের নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সময়ে নতুন করে গ্যাস সংযোগ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটা সুংসংবাদ। ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো দূরীকরণের পরামর্শ দিয়ে সাবেক এই গভর্নর বলেন, সুদহারের অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। ব্যবসায়ীরা এখন ঋণ নিতে পারছেন না। ব্যাংকও ঋণ প্রদানে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকছে। তার মতে, আর্থিক খাতে কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অবদান মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে কমে যাচ্ছে। এই খাতে নজর দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সমস্যা সমাধানই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণখেলাপিদের সুবিধা প্রদানের সমালোচনা করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বড় বড় ঋণখেলাপিদের সরকার বিশেষ সুবিধা দিল। এতে যারা সৎভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করেন, সেসব ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। ঋণখেলাপিদের এই ধরনের সুবিধা প্রদান অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়। ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না। ব্যাংকে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন সরকারের উচিত ব্যাংকের ওপর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর