শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৯

বন্যার্ত মানুষকে বাঁচাতে সংলাপ চান ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যার্ত মানুষকে বাঁচাতে সংলাপ চান ড. কামাল

দেশের বন্যার্ত মানুষকে বাঁচাতে জাতীয় সংলাপ চেয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বন্যার বিস্তৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য দল-মত নির্বিশেষে জনগণকে বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশের মালিক জনগণকে সে তথ্য পেতে এবং বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে আহ্বান জানান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে সংগঠনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদ সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমদ ও আমিন আহমেদ আফসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুল বারী হামিম, সম্পাদক পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, খান সিদ্দিকুর রহমান, স্থায়ী পরিষদ সদস্য হারুনুর রশীদ তালুকদার, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, মোহাম্মদ সানজিদ রহমান শুভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নয়, জনগণের আসল ঐক্য প্রয়োজন। এখানে কয়েকটি দলের ঐক্য নয়, সব দল ও জনগণের ঐক্যকে আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। সবাইকে মিলে করতে হবে।’ বর্তমান সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে কি নেই- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দেখুন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে নির্বাচন সামনে রেখে।

রাজনীতিকে মূল লক্ষ্য রেখে সেই ফ্রন্ট হয়েছিল। সেই মূল লক্ষ্য তো আমাদের থাকবেই।’ ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র মানে হলো জনগণ ক্ষমতার মালিক। দেশের শাসন করার ব্যাপারে নাগরিকেরও একটা ভূমিকা থাকে। সেটি না থাকার কারণে ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে জনগণকে আরও সক্রিয়ভাবে দেশের ব্যাপারে এগিয়ে আসা দরকার, সংগঠিত হওয়া দরকার। গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা আছে, আমাদেরও ভূমিকা আছে। এককভাবে সরকারের পক্ষে এটা মোকাবিলা সম্ভব নয়। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন অবশ্যই একটা জাতীয় সংলাপ অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। দ্রুত জাতীয় সংলাপ হোক।’ এ সময় তিনি উত্তরবঙ্গের বন্যা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বন্যার আক্রমণ, বন্যা কেন হয়, কীভাবে মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচানো যায়, সে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে হবে। ঘাটতিগুলো পূরণ করার ব্যাপারে কীভাবে এগোতে হবে সেগুলো চিহ্নিত করার কাজে নামতে হবে। আর এসব করতে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন। বন্যা মোকাবিলায় দলীয় সংকীর্ণতার থেকে ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, কিছু বিষয় আছে, যেখানে জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করার দরকার আছে। বন্যা হলো সে রকম একটি বিষয়, যেখানে দলীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে সবাই মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর সরকারের দায়িত্ব থাকে নাগরিকদের টেনে তাদের কাছ থেকে যেটি পাওয়ার কথা সেটি আদায় করা, তথ্য আদায় করা, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। যেটিকে বলে, সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এটি করা লাগে, এটি করা হচ্ছে না। লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ অবিলম্বে বানভাসী মানুষের নিরাপদ জীবন ও আশ্রয়ের ব্যবস্থার দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা জরুরি। জরুরি ভিত্তিতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর শুকনো খাবার সরবরাহ করতে হবে। তিনি অবিলম্বে অপচয়, দুর্নীতি রোধ করে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণপূর্বক স্বচ্ছতা ও জবাবহিহির ভিত্তিতে রিলিফ কমিটি করে ত্রাণ তৎপরতা চালানোরও আহ্বান জানান। এ ছাড়া চিলমারী, রাজীবপুর, রৌমারী এলাকাসহ অধিকরতর বন্যাক্রান্ত উপজেলাগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণারও দাবি জানান ড. আবু সাইয়িদ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর