শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৬

ক্যাসিনোকাণ্ডের সর্বশেষ

যুবলীগের আনিস ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পাগলা মিজান কারাগারে

প্রতিদিন ডেস্ক

রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর

থানা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে। এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ৩ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানিয়েছে দুদক। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রিমান্ড শেষে কারাগারে পাগলা মিজান : রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে। গতকাল দুপুরে তাকে মৌলভীবাজার ২ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শ্রীমঙ্গল থানায় র‌্যাবের করা একটি অস্ত্র মামলায় ২৪ আক্টোবর থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন মিজান।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোরব ভোররাতে শ্রীমঙ্গল শহরের গুহ রোড এলাকার ফজলুর রহমানের বাসা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। আটকের সময় একটি বিদেশি অস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি ও নগদ দুই লাখ টাকা ও হানিফ বাসের একটি টিকিট পাওয়া যায়। পরদিন ১২ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল জব্বার বাদী হয়ে মিজানের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিজানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল।

যুবলীগের সেই আনিস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল পৃথক দুই মামলায় আনিস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, আনিসের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সুমি রহমানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। কাজী আনিসুর রহমান অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আনিসুর রহমান অবৈধ অর্থে ঢাকার শান্তিনগরে ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ১২টি ফ্ল্যাট, জিগাতলায় একটি ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জে হাস-মুরগির খামার, হ্যাচারিসহ শত বিঘা জমি, একাধিক প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের দাবি, আনিসুর রহমান ক্যাসিনো ব্যবসাসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জি কে শামীম ও খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক : দুর্নীতি মামলায় এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ৩ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। গতকাল দুদকের জনসংযোগ কার্যালয় বিষয়টি জানিয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর খালেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে দুদক। খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলায় ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তাদের এই বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলার বাদী দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দীন। খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ক্যাসিনোর টোকেন ভাঙাতে এসে শাহজালালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার : হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে চার লাখ টাকার ক্যাসিনো টোকেনসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া জানান, আবদুল হাকিম ক্যসিনোর খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি চকরিয়া থেকে ক্যাসিনোর টোকেন ভাঙাতে ঢাকায় এসেছিলেন।

সম্রাটের সহযোগী জাকির আটক : বহুল আলোচিত ক্যাসিনোখ্যাত সম্রাটের সহযোগী জাকিরকে ভোলা থেকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৮ সদস্যরা জাকিরকে আটক করে গতকাল বিকালে ভোলা থানায় হস্তান্তর করেছেন। এ সময় জাকিরের কাছ থেকে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন। তিনি আরও জানান, র‌্যাব বাদী হয়ে ভোলা থানায় মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় জাকিরকে সম্রাটের ব্যবসায়িক পার্টনার উল্লেখ করা হয়েছে।

 সূত্র জানায়, জাকিরকে ভোলা জেলা শহরের চরনেয়াবাদ এলাকায় নতুন পাসপোর্ট অফিস সংলঘœ তার নানাশ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয়।

এদিকে জাকিরকে আটকের বিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মন্তব্য