শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৪

অবশেষে ভাঙা শুরু বিজিএমইএ ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে ভাঙা শুরু বিজিএমইএ ভবন

অবশেষে হাতিরঝিলের ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত বিজিএমইএ (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি) ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় অবস্থিত এ ভবন ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নিজ হাতে ভবন ভাঙা শুরু করে বলেন, এই সুন্দর ঢাকার দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের বুকে অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বিজিএমইএ ভবন গড়ে উঠেছিল। এটা ছিল পরিবেশ ও সুন্দর ঢাকার জন্য বিষফোঁড়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলমসহ  অন্য কর্মকর্তারা। গৃহায়ণ মন্ত্রী বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী এই ভবন অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় মাসের মধ্যে ভবনটি অপসারণ করবে। এ কাজ দেখভাল করার জন্য দুটি টিম গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বুয়েট, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিসহ নগর ইমারত বিশারদদের নিয়ে একটি টিম এবং রাজউকের নিজস্ব একটি টিম। দুটি টিম ভবন ভাঙার কাজ দেখভাল করবে। যান্ত্রিক উপায়ে এই ভবন ভাঙা হবে। এ ভবন ভাঙা প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আদালতের রায়ের ওপর পুরোপুরি সম্মান আছে। ভবনটি ভাঙার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইলেকট্রিক ড্রিলিং হ্যামার মেশিন দিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন গণপূর্ত মন্ত্রী। এর আগে সেখানে এক্সকেভেটর, বুলডোজার, কংক্রিট জ্যাকহামার, দীর্ঘ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ড্রাম ট্রাক এবং গ্যাস কাটারসহ ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতির বদলে প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার খরচ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিজিএমইএ বহন করবে। একই পদ্ধতিতে অপরিকল্পিতভাবে ২০০৮ সালে র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে ১১ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে।

তথ্যমতে, গত বছর ১২ এপ্রিল রাজউকের কাছে এ ভবন বুঝিয়ে দিয়ে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন নতুন ভবনে কার্যালয় খুলেছে বিজিএমইএ। এর আগে আট বছর মামলা লড়ে পরাজিত হয় তারা। পরে কয়েক দফা সময় নিয়ে শেষ পর্যন্ত কার্যালয়টি সরিয়ে নিতে প্রস্তুতি নেয় বিজিএমইএ। জমির স্বত্ব না থাকা এবং জলাধার আইন লঙ্ঘন করায় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার নির্দেশ দেয় আদালত। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাই কোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো’ উল্লেখ করে। রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয় আদালত। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএর লিভ টু আপিল ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে ভবনটি নিজ খরচে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময় পায় তারা। সর্বশেষ ২০১৮ সালে নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা আদালতের কাছে মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না। ওই সময় শেষ হয় ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর