শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৮

অর্থনৈতিক সুনামি ঠেকাতে সুদের হার কমাতে হবে

-ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ

রুহুল আমিন রাসেল

অর্থনৈতিক সুনামি ঠেকাতে সুদের হার কমাতে হবে

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের মুখে অর্থনৈতিক সুনামি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে- তাদের সুদহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে এনে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়া। তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ কার্যকর সম্ভব হবে। আর পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ড. জামাল বলেন, করোনাভাইরাসের মতো এমন পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে আর হয়নি। হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের প্রভাব সারা দুনিয়া শাটডাউন করে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান- জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ পরিচালক আরও বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নগদ মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ছয় মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি এখন তিন মাস অন্তর অন্তর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে তাৎক্ষণিক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা। এই মুদ্রানীতিতে করোনাভাইরাস সংকট থেকে উদ্ধার পেতে প্যাকেজ থাকা উচিত।

হিসাববিদদের সংগঠন দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ-আইসিএবির সাবেক এই সভাপতি বলেন, রাজস্ব আদায়ে সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হোক। এত বিশাল পরিমাণ রাজস্ব একটা ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা সঠিক না। এই টাকা বিকেন্দ্রীকরণ করে চারটা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে দেওয়া উচিত। কারণ যখন শুধু সোনালী ব্যাংকে রাজস্ব আদায়ের টাকা ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন দেশে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা। এখন বাজেট অনেক বড় হয়েছে। অর্থনীতিও বড় হয়েছে। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোকেও সরকার কাজে লাগাতে পারে। ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাংকগুলোর তারল্য সক্ষমতা অনুযায়ী বাড়ানো উচিত। ফলে যে ব্যাংকের যেমন সক্ষমতা, তেমন ঋণ পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। এক্ষেত্রে ঋণের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে ২০০ কোটি টাকা। আর সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ হবে ৫০০ কোটি টাকা। এই ঋণের সুদহার হওয়া উচিত ২ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ শতাংশ হারে এই সুদ নিচ্ছে। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক ও সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা করার দরকার নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই তাদের সুদহার কমাতে হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরেও ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। এটাও ২ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। তবেই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ ও গ্রাহকের আমানতের ওপর ৬ শতাংশ সুদহার কার্যকর করা সম্ভব হবে। বিশে^র বিভিন্ন দেশ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক সুনামি ঠেকাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এভাবেই জাপানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ নিতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ সরকার যে সহায়তা দেবে, তা আগেভাগেই দেওয়া উচিত। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এতে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হবে। পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর