শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুলাই, ২০২০ ০০:৩৩

কোন পথে হেফাজতে ইসলাম ভিতরে বাইরে মেরুকরণ

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

দেশের অন্যতম কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক নির্বাচনের জের এখন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে। হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে। সর্বশেষ শফীপুত্র মাওলানা আনাস মাদানির একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে আনাস মাদানি দাবি করেন জামায়াতের সঙ্গে কানেকশন রয়েছে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর। এর পর থেকেই ফের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

ওই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অতীত বর্তমান কোনো সময়ই জামায়াতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল না। বরং বিভিন্ন বয়ানে জামায়াতের ভ্রান্ত আকিদা নিয়ে আমি দেশবাসীকে সচেতন করে আসছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতে ইসলামের এক নেতা বলেন,             হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরোধ এখন গোপন কিছুই নয়। এ দুই নেতার অবস্থান দুই মেরুতে। তাদের বিরোধে খ-বিখ- হয়ে যেতে পারে হেফাজতে ইসলাম। জানা যায়, হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক হিসেবে প্রবীণ শিক্ষক আল্লামা শেখ আহমদকে ওই মাদ্রাসার মজলিসে শুরা নিয়োগ করলে হেফাজতে ইসলামের আমির ও মহাসচিবের মধ্যকার পুরনো বিরোধ ফের চাঙ্গা হয়। জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীদের দাবি, শফীপুত্র ও হেফাজতের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানির চক্রান্তে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে পদবঞ্চিত হয়েছেন বাবুনগরী। যদিও শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আনাস মাদানি ও তার অনুসারীরা। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ‘অজ্ঞাত’ এক বক্তের সঙ্গে আনাস মাদানির একটি ফোনালাপ ফাঁস হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ওই ফোনালাপে আনাস মাদানি দাবি করেন, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা বাবুনগরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাত রয়েছে। তিনি জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের কারণে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে হেফাজত নেতা-কর্মীদের মার খেতে হয়েছে। এদিকে গত ১ জুলাই হাটহাজারী মাদ্রাসায় জরুরি বৈঠকে বসেন মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকরা। ওই বৈঠকে মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা শেখ আহমদ, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি আবদুস সালাম, মাওলানা আহমদ দিদার কাসেমীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সবাই একযোগে কাজ করার মত পোষণ করেন। মাদ্রাসা বিষয়ে নেওয়া শুরা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন উপস্থিত শিক্ষকরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর