শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:২৭

লাভজনক ব্যবসা এমপিগিরি

গোলাম রাব্বানী

লাভজনক ব্যবসা এমপিগিরি
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, লুটেরাদের হাতে রাজনীতি এখন জিম্মি। লোকে বলে, বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো এমপিগিরি। আমরা অনেক আগেই বলেছি এখন রাজনীতি নেই। এখন ব্যবসায় হয়েছে সবকিছু। সেটাই তথ্য-প্রমাণসহ টিআইবি হাজির করেছে। এটা বাজার অর্থনীতির পরিণতি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ : একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এই রাজনীতিবিদ বলেন, লোকে বলে, বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো এমপিগিরি। এটা একটা বিরাজনৈতিকীকরণ। এনজিওরা একভাবে করে, আর লুটেরাদের দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি করে আরেকভাবে। তারা রাজনীতিটাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে। এনজিওরা সিভিল সোসাইটির নামে করে। তাদের কথা, রাজনীতি দিয়ে হবে না, সিভিল সোসাইটি দিয়ে হবে। আর এরা (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) বলে রাজনীতিবিদদের দিয়ে হবে না, ব্যবসায়ীদের দিয়ে হবে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে এখন চালু হয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্য। অনেক দিন আগেই বড় দুটি বুর্জোয়া দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি এটা চালু করেছে। এ দুই দলে শুধু মনোনয়ন বাণিজ্য নয়, এমনকি দলের পদ, সেটাও টাকা নিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা হচ্ছে সাধারণ চিত্র। ব্যতিক্রম যে নেই তাও নয়। তবে ব্যতিক্রম থাকলেও এটাই সাধারণ চিত্র। লুটেরাদের হাতে রাজনীতি এখন জিম্মি। সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি- মনোনয়ন বোর্ডে খবর নিয়ে দেখেন, যখন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, তখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘আপনার মাসেল পাওয়ার আছে? টাকা আছে? না থাকলে আপনি আনফিট।’ প্রার্থী যখন বলেন, ‘আমি জেল খেটেছি’। তখন বলা হয়, ‘আপনি জেল খাটার জন্য ফিট। নির্বাচনের জন্য ফিট নন’। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে আবারও মুক্তিযুদ্ধে ফিরে যেতে হবে। আরেকটা সমাজ বিপ্লবের মতো বড় অভ্যুত্থান করতে হবে। একাত্তরের মতো একটা গণজাগরণের মধ্য দিয়ে এটার পরিবর্তন সম্ভব। এ ছাড়া সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৬১ শতাংশ, আইনজীবী ১৩ শতাংশ, রাজনীতিক ৫ শতাংশ ও অন্যান্য ২১ শতাংশ। এ সংসদে এমপিদের অনুপস্থিতির কারণে কোরাম সংকটে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৮ লাখ টাকা। গতকাল টিআইবির প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর