শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০২০ ২২:৪২

নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়ে থামল তার কাটা অভিযান

বিচ্ছিন্ন ক্যাবল সংযোগ জোড়া লাগবে ৩-৪ দিনে : কোয়াব

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির ঝুলন্ত তার মাটির নিচে প্রতিস্থাপনে নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আপাতত তার অপসারণ অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ থেকে ক্যাবল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ উদ্যোগে মাটির নিচ দিয়ে তার নেওয়ার কাজ শুরু করবে। গতকাল দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগর ভবনে  মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)  নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা হয়।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ঝুলন্ত তার অপসারণের সময় বিচ্ছিন্ন হওয়া ক্যাবল সংযোগ আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে জোড়া লাগানোর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে কোয়াব। মেয়রের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঝুলন্ত তার অপসারণের ফলে বর্তমানে ডিএসসিসি এলাকার ৩৫ শতাংশের মতো গ্রাহকের ক্যাবল টিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই আমরা সংযোগগুলো পুনস্থাপন করে ফেলব। মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি আমাদের তার অপসারণের জন্য সময় ও সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ফি ও জরিমানা মওকুফের কথা বলেছেন। আমরাও চাই ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল দূর হোক। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে সেটা করতে পারব।

বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে মেয়র তাপস বলেন, তারের জঞ্জাল থেকে ঢাকা শহরকে মুক্ত করতে চাই। আমরা একমত হয়েছি, যৌথভাবে কাজ করলে সেটা সম্ভব হবে। দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে রাস্তায় কোনো ঝুলন্ত তার আজকের পর থেকে কাটা হবে না। তারা নিজ খরচে মাটির নিচ দিয়ে তারের সংযোগ নেবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উপরে ঝুলন্ত তার কেটে দেবেন। এটা আগামী নভেম্বরের মধ্যেই তারা শেষ করবেন বলে কমিটমেন্ট দিয়েছেন।

ডিএসসিসির মেয়র জানান, সোমবার থেকে আইএসপিএবি ও কোয়াব নিজ উদ্যোগে ডিএসসিসি এলাকায়, বিশেষ করে ধানমন্ডি এলাকায় কাজ শুরু করবে। ঝুলন্ত তার অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, বিনা খরচে তাদের সেই সুযোগ করে দেবে। তাদের রাস্তা প্রয়োজন হলে রাস্তা, ফুটপাথ প্রয়োজন হলে ফুটপাথ, নর্দমা প্রয়োজন হলে নর্দমা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির অবকাঠামো যখন যা প্রয়োজন হবে, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই সুযোগ করে দেবে। যে করেই হোক ঝুলন্ত তারগুলো অপসারণ করতে চাই। দক্ষিণ সিটি এলাকায় ব্যবসা করতে হলে নিবন্ধন  নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র তাপস বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল- বোঝাবুঝি ছিল, কিছু বিষয়ে দ্বিমত ছিল। বৃহত্তর স্বার্থে তারের জঙ্গল থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার জন্য আমরা সব রকম ছাড় দেব। এমনকি সড়ক খনন করতে হলে যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতিপূরণ ফি আমরা এখান থেকে নেব না।

আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, ‘আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই আমরা সব ঝুলন্ত তার অপসারণ করতে পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে সুন্দর নগরী এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া।’ মাটির নিচ দিয়ে তার নিতে গ্রাহকের ফি বাড়ানো হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গ্রাহকের ফি বাড়ানো হবে। আমরা আগের খরচেই সংযোগ রাখতে পারব। রাজধানী থেকে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল সরাতে গত ৫ আগস্ট থেকে জোরেসোরে অভিযান শুরু করে ডিএসসিসি। সীমিত পরিসরে অভিযানে নামে ডিএনসিসিও। আকস্মিক কেবল ও ইন্টারনেট সংযোগ কাটা পড়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের। এর ধাক্কা লাগে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, ই-কমার্স, ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার, আউটসোর্সিং, আইটিসহ বিভিন্ন খাতে। এরপর অভিযান বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয় আইএসপিএবি ও কোয়াব। বিকল্প ব্যবস্থা না করে তার অপসারণ বন্ধ না করলে গতকাল থেকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা সারা  দেশে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবা বন্ধের  ঘোষণা দেয় তারা। এই ঘোষণায় উদ্বেগ জানায় ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইন ক্লাসের সময় পাল্টে সকালের বদলে রাতে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। উদ্বেগ জানায় ই-ক্যাব, বেসিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে  বৈঠক করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক। সেই বৈঠকে আশ্বাস পেয়ে ‘আপাতত’ কর্মসূচি স্থগিত করে সংগঠন দুটি। গতকাল দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে তাদের বৈঠকের পর সমঝোতার ঘোষণা আসে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর