শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪২

ইরফান সেলিমের তথ্য ক্রসচেক করছে ডিবি

দুই মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরফান সেলিমের তথ্য ক্রসচেক করছে ডিবি

সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইরফান ও জাহিদের রিমান্ডের প্রথম দিন গতকাল আসামিদের মুখোমুখি বসিয়ে সেদিনের ঘটনা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের আলাদাভাবেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া সব তথ্য ক্রসচেক করে দেখা শুরু করেছে ডিবি। যদিও প্রাথমিকভাবে সব দায় অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত কাউন্সিলর ইরফান। তার সহযোগীরাও নিজেদের ঘাড়ে দায় নিয়ে সেলিমকে দায়মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। সহযোগীদের দাবি, ইরফানের নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামেন এবং মারধর করেন। এর আগে, থানা পুলিশ হেফাজতেও তারা একইভাবে ইরফানের দায় আড়াল করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এর আগে বুধবার ধানমন্ডি থানার ওই মামলায় ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে মামলাটি ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী এ বি সিদ্দিক দীপুর তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত। পরে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি থানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় একটি মাইক্রোবাসে করে ইরফান সেলিম এবং তার সহযোগী জাহিদুল ইসলাম ও দীপুকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই সহযোগীসহ ইরফানকে আমরা হেফাজতে এনেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা শুধু মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলার অংশটুকু তদন্ত করে দেখব। রিমান্ড শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। এখনো বলার মতো কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ এদিকে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ড বিষয়ে আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু তারা এখন অন্য মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন, ওই রিমান্ড শেষে শুনানির পর আদালত পরবর্তী নির্দেশ দেবে। আপাতত আমরা রিমান্ডের আবেদন জমা দিয়ে রেখেছি।’ প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে কলাবাগান ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিনজন নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে ফুটপাথে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি মডেল থানায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে র‌্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে র‌্যাব তাদের হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ, অস্ত্র ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুজনকে দেড় বছর করে কারাদন্ড দেয়। র‌্যাব তাদের দুজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি করে চারটি মামলাও করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর