শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২২

ইন্টারপোল রেড নোটিসে ৭৮ বাংলাদেশি

সর্বশেষ যুক্ত হলো পি কে হালদারের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টারপোল রেড নোটিসে ৭৮ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিসের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের ৭৮ নাগরিকের নাম। রেড নোটিসে থাকা ৭৮ জনের মধ্যে ছয়জন মানব পাচারকারী। এ ছয়জনের মধ্যে অতিসম্প্রতি দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছর লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যাকান্ডের পর মানব পাচারকারীদের ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাইলে ছয় মানব পাচারকারীর বিষয়ে রেড নোটিস জারি করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। এদিকে সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার অপরাধে পলাতক থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের নাম যুক্ত হয়েছে বলে  জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলকে অনুরোধ করলে পি কে হালদারের নাম তারা রেড নোটিসে যুক্ত করে। জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সহকারে ইন্টারপোল সদর দফতরে আবেদন? পাঠায়। ইন্টারপোলের একটি বিশেষ কমিটি আবেদন এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আবেদনটি অনুমোদন করে।

ইন্টারপোল বলছে, এই নোটিস বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে আসামিকে হস্তান্তর, আত্মসমর্পণ বা অনুরূপ আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করার একটি প্রক্রিয়া।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, রেড নোটিস ইন্টারপোলের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি সারা ?বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের শাখায় পাঠানো হয়। বিদেশে পলাতক থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারীদের অবহিত করতেই ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়। সর্বশেষ পি কে হালদারের নাম এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের যে দুই পলাতক মানব পাচারকারী গ্রেফতার হয়েছেন তারা হলেন মাদারীপুরের শাহাদাত হোসেন এবং কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল। এই মানব পাচার চক্রের ছয়জনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি আছে। শাহাদাত হোসেনকে বিমানবন্দর থেকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে। আর জাফর ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইতালিতে। গত বছর মে মাসে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে মানব পাচারকারীরা গুলি করে ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে। সেই মামলায় শাহাদাত ও জাফর আসামি। আরও চার আসামি হলেন বাংলাদেশি মিন্টু মিয়া, স্বপন, নজরুল ইসলাম মোল্লা ও তানজিরুল। তাদের ধরিয়ে দিতে গত নভেম্বরে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ইন্টারপোলের লাল তালিকায় এখন ৭৮ বাংলাদেশির নাম ও পরিচয় আছে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার ওই দুজন মানব পাচারকারীও আছেন। তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের অপরাধের ধরনও বলা আছে। আছে ঠিকানা, বয়স ও ছবি। ৭৮ জনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের নামও আছে। আছে যুদ্ধাপরাধ মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের নাম। বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী, খন্দকার আবদুর রশীদ, নাজমুল আনসার, শরিফুল হক ডালিম, আহমেদ শরিফুল হোসেন, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরীর নাম আছে। তালিকায় যুদ্ধাপরাধের মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের মধ্যে আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নাম আছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক মাওলানা তাজউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি এবং বিএনপি নেতা হারিস চৌধুরীর নাম ও ছবি আছে এ তালিকায়। পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, মানব পাচারকারী, হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে শীর্ষ সন্ত্রাসী যারা পলাতক তাদের নামেও রেড নোটিস জারি করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর