শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২২

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করতে দ্রুত ভ্যাকসিন প্রয়োগ জরুরি

মাহমুদ আজহার

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করতে দ্রুত ভ্যাকসিন প্রয়োগ জরুরি
ড. বিজন শীল

ভারত থেকে আসা ভ্যাকসিন দ্রুত প্রয়োগ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। তিনি বলেন, অক্সফোর্ডের তৈরি টিকা বাংলাদেশ-ভারতের উপযোগী। তারপরও এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না তা যাচাই করতে দ্রুত পরীক্ষামূলক কিছু প্রয়োগ করতে হবে। তবে আমি আশা করছি, ব্রিটেনের করোনা ভ্যাকসিন ভালোই হবে। কারণ, ব্রিটিশ সরকার অনেক কিছু দেখেশুনেই এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ড. বিজন কুমার শীল গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা বলেন।

আলাপচারিতায় ড. বিজন বলেন, আজ থেকে ছয় মাস আগে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আসবে। সেক্ষেত্রে আমি বলেছিলাম, ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কমে যাবে। এখন করোনাভাইরাসের সংক্রণের হার পরীক্ষা করলে তাই পরিলক্ষিত হবে। শীত মৌসুম হলেই যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে, বিষয়টা এমন নয়। কারণ, আমাদের দেশে কার্যকর লকডাউন না হওয়ায় করোনাভাইরাস সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভাইরাস ক্রমেই দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বল হতে হতে তা কমে যায়। এখন তাই হয়েছে। এর সঙ্গে শীতের কোনো সম্পর্ক নেই। অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের মতে, শীতে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, শীত মৌসুম আসায় সবাই এখন নাক-মুখ ঢেকে রাখছেন। এটা একটি ভালো দিক। মাস্কও পরছেন বেশির ভাগ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন সাধারণ মানুষ। এতেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমায়। সতর্ক পর্যবেক্ষণে থেকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পাশাপাশি মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই করোনা সংক্রমণ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরুতেই ভয়ের মধ্যে ছিল সারা বিশ্ব। সেই ভয়টা এখন কেটে গেছে। বাংলাদেশও ভয়কে জয় করতে পেরেছে। এখন কেউই আর অতিরিক্ত চাপে নেই। সাহসটাও একটা বড় শক্তি জোগাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এটাও কাজ করছে। তবে ভিন্ন চিত্র ইউরোপ-আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বে। সেখানে শীতকালেও করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। অবশ্য এখন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। আরও কিছুদিন গেলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, ভ্যাকসিনে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে কি না। তবে শুরুতেই তারা করোনাকে একটি গন্ডিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এতে করোনা ওই স্থানে আরও বেশি শক্তিশালী হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খুব সহজেই ঘায়েল করে ফেলে এ ভাইরাস।

ড. বিজন কুমার শীল বলেন, বাংলাদেশের হার্ড ইমিউনিটি বেড়ে যাওয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। এটা খুবই ভালো দিক। যত বেশি মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি চলে আসবে ততই করোনা সংক্রমণের হার কমবে। যুক্তরাষ্ট্রে জুন-জুলাইয়ে যখন ১০-১৫ ভাগ মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি পাওয়া যায়, তখনই বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ৪০ থেকে ৫০ ভাগ মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি চলে আসে। এখন এর পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাস আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, যে কয়টি ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনই বেশি উপযোগী হবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ, অন্যান্য ভ্যাকসিন যে তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়, সেই তুলনায় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন বেশি সহনীয় মাত্রায় রাখা যাবে। তাই বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে এটাই বেশি কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি। তারপরও এটা প্রয়োগ না করলে বোঝা কঠিন হবে। এ জন্যই দ্রুত ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে এই অণুজীব বিজ্ঞানী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তির শরীরে মেমোরি সেল ছয় মাস থাকে। এ নিয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষণা সঠিক। ছয় মাস পরে থাকবে কি না, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, করোনাভাইরাসের বয়স তো বেশি না। মেমোরি সেল শরীরে অনেক বছর থাকে। আমি পূর্বে এ কথা বলেছি। এখনো বলছি, সার্স ভাইরাসের অভিজ্ঞতা থেকে। সার্স ভাইরাস এবং করোনাভাইরাস একই গোত্রের এবং দুটির মধ্যে মিল ৮৩ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক গবেষণায় ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির শরীরে মেমোরি সেল পাওয়া গেছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং করোনাভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের গবেষণা থেকে বলছি, মেমোরি সেলের স্থায়িত্ব শরীরে থেকে যাবে।


আপনার মন্তব্য