শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৭

ফলাফল পাল্টানোসহ ইসিতে নানা অভিযোগ

আমলে নিচ্ছে না ইসি, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ কর্মকর্তাদের

গোলাম রাব্বানী

ফলাফল পাল্টানোসহ ইসিতে নানা অভিযোগ

সংঘাত-সংঘর্ষ, সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই, ইভিএম ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে চার ধাপের পৌরসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। তবে এসব নির্বাচনের অনিয়ম, ফল পাল্টানো, ভোট কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে এসেছে। ইসির সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের স্তূপ জমেছে। ইসির কাছে শত শত অভিযোগ জমা হলেও মাত্র কয়েকটি জায়গার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। ইসির কাছে দেওয়া অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অনেক প্রার্থী। তারা বলছেন, কমিশনে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হয় না। ইসির টেবিলে ফাইলবন্দী থাকে এসব অভিযোগ। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, ফলাফলের গেজেট হয়ে গেলে কমিশনের আর কিছু করার থাকে না। তখন সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ত্রিশ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার ধাপের মোট ২০২ পৌরসভায় ভোট হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ৩২ পৌরসভায় ভোট হবে এবং ১১ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপে ৯ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে ২৪ পৌরসভায় ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৫৯ পৌরসভায় ?এবং তৃতীয় ধাপে ৬৩ ভোট হয় ৩০ জানুয়ারি। চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি ৫৬ পৌরসভায় ভোট হয়। বিভিন্ন ধাপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রথম ধাপে ইভিএমে ভোট পড়েছে ৬৫.২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে ব্যালট ও ইভিএম ভোট পড়েছে ৬১.৯২ শতাংশ। আর তৃতীয় ধাপে ব্যালটে ভোট পড়েছে ৭০.৮২ শতাংশ এবং চতুর্থ ধাপে ব্যালট ও ইভিএমে ভোট পড়েছে ৬৫.৩৩ শতাংশ। নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়ে আমরা জানতে না পারায় অ্যাকশন নিতে পারছি না। নির্বাচনের দিন এসব ঘটনা আমাদের কাছে আসছে না। নির্বাচনের দিন অথবা বেসরকারি ফলাফল হওয়ার আগে আমাদের কাছে এসব ঘটনা আসতে হবে। আসলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর যদি এ ধরনের ঘটনা মিডিয়ায় আসে। ওই ফলাফল বাতিল করার এখতিয়ার ইসির জন্য সীমিত হয়ে যায়। এসব ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে আমরা একটি ট্রাইব্যুনালও গঠন করে দেই। প্রিসাইডিং অফিসার তথা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।  

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের কাছে আলাদা আলাদা অভিযোগ করেছেন পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাজিদ মোর্শেদ রুশো খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘ভোটের দিন স্থানীয় এমপির মেয়ে মহিলা কেন্দ্রে পুরুষ দলবল নিয়ে প্রবেশ করে জাল ভোট মারতে শুরু করেন। তিনি এই ওয়ার্ডের ভোট বাতিল করে পুনঃভোটের দাবি জানান। শুধু ঈশ্বরদী পৌরসভায় নয়, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়  ও চতুর্থ ধাপের অনেক পৌরসভা নির্বাচন বাতিল, ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ রয়েছে কমিশনের কাছে। যদিও কমিশন মাত্র কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে। আর বাকি অভিযোগ ফাইলবন্দী রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল : নির্বাচনী আইন অনুযায়ী-নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে নির্বাচন কমিশন। আইনে বলা হয়েছে- নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন একজন উপযুক্ত পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং একজন উপযুক্ত পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। এক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাবে এবং কোনো মামলা দায়ের করা হলে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল মামলা দায়ের করার তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করবে। নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায়ে কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে উক্ত ব্যক্তি রায় ঘোষণার তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবেন এবং কোনো আপিল দায়ের করা হলে নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল দায়ের করার তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর