শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০০

সাক্ষাৎকারে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর

ব্যবসায় লোকসান হলে বাড়তি কর কেন দেব?

রুহুল আমিন রাসেল

ব্যবসায় লোকসান হলে বাড়তি কর কেন দেব?

এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ব্যবসায় লোকসান হলে বাড়তি কর কেন দেব? তিনি বলেন, দেশের একজন ব্যবসায়ীও উৎসে কর দিয়ে ফেরত পাননি। তবুও আমার বিশ্বাস ৯০ ভাগ মানুষ কর দিয়ে শান্তিতে থাকতে চান। এ জন্য কর প্রশাসনে সংস্কার দরকার। আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে করের বোঝা কমবে বলেও আশা করেন এই শিল্পোদ্যোক্তা।  গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এসব কথা বলেন।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দেশে করহার অত্যধিক। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে কর দিই। আমি কর দেওয়া নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হলে বাড়িত কর কেন দেব। কোনো একটি বছর বেশি কর দিয়েছি বলে প্রতিবছরই বেশি কর দিতে হবে? এটা হতে পারে না। তিনি উৎসে কর নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমদানি পর্যায়ে এবং সরবরাহ পর্যায়ে উভয় ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের ফলে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান’সমূহ মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, যা অনৈতিক। তিনি করপোরেট কর প্রসঙ্গে বলেন, এই কর হার কমিয়ে ক্রমান্বয়ে ২৫ শতাংশে নির্ধারণ করা উচিত। এ লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে তা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। অর্থ আইন ২০২০ এর মাধ্যমে এই হার কমিয়ে ৩৫ শতাংশ থেকে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এই হার এখনো অনেক বেশি, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগ করতে অনুৎসাহিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপি রেশিও হলো ২৩ শতাংশ। সরকার এই অনুপাত বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। করপোরেট ট্যাক্স হার কমানো না হলে সরকারের নির্ধারিত বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপি অনুপাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টকর হয়ে যাবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা চূড়ান্ত রকমের ব্যবসা অবান্ধব। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ করেই দেওয়া উচিত। আমরা যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করি, আমরা কাল থেকে কান ধরে ছেড়ে দিতে চাই। লাভ হোক আর লোকসান, যা-ই হবে, কর দিয়েই যাবেন। যারা কর দেয় না, তারাই ভালো থাকবে। তারা আরও বড় বড় ব্যবসা করবে, আর আমরা মরব। এ ধরনের ব্যবসার মধ্যে আর আমরা নেই। কর ব্যবস্থা ঠিক করেন। অন্যথায় বর্তমান ব্যবসাই থাকবে না, নতুন বিনিয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না। এই খ্যাতনামা ব্যবসায়ী মনে করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যদি কর সংগ্রহকারী হিসেবে থাকে এবং সারা জীবন শুধু বলে ‘শুনছি’। কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন না দেখি, তার মানে বাংলাদেশে আপনারা কোনো বিনিয়োগ চান না। বলে দেন, আমরা বন্ধ (কারখানা) করে ট্রেডার হয়ে যাই। কারণ, ট্রেডিং ব্যবসা ভালো। উৎপাদন করে এই মরার খাটুনি যুক্তিসংগত নয়।

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য খরচের সীমা ইতিপূর্বে আমরা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারকেই অত্যন্ত কম বিবেচনায় তা বৃদ্ধিকরণের জন্য প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু পূর্ববর্তী অর্থ আইনে তা আরও কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এই হার পরিবর্তন করে ন্যূনতম ২ শতাংশ করা হোক। বর্তমানে ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি পাওয়ার থেকে বৈদেশিক ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হিসেবে যে কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে বৈদেশিক ভ্রমণের খরচ তার বার্ষিক টার্নওভারের দশমিক ৫০ শতাংশ হারে অনুমোদনযোগ্য খরচ হলে তা নিতান্তই অপ্রতুল এবং এই খরচে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিদেশ ভ্রমণ সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, শিল্পে টার্নওভারের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রমোশন খাতে ব্যয় করে থাকে, যা মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি সহায়ক ও প্রচলিত চর্চা এবং বিশ্বব্যাপী অনুশীলনও করা হয়। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের খাতে অযৌক্তিকভাবে অননুমোদন খরচ হিসেবে বিবেচনা করার কোনো নজির নেই। এই আইন সম্ভাব্য দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৩০ ক্লজ (পি) প্রমোশনাল ব্যয় খাতে অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে প্রবর্তিত এই ধারা, নন-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমাতে সরকারের উদ্যোগকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর