শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আফগানিস্তান ছাড়তে মানুষের ঢল

কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৬০

প্রতিদিন ডেস্ক

কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৬০

কাবুল বিমানবন্দরে হামলায় আহত এক নারীকে নেওয়া হচ্ছে -এএফপি

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে গতকাল সন্ধ্যায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৬০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায় তারা। এ ঘটনায় তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এবং আফগানিস্তান হাইকাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বিস্ফোরণ হয়েছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছেন তারা। বিবিসির খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানে দুই দশক পর তালেবানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসার সময় থেকেই সেখানে অবস্থান করা বিদেশিদের সঙ্গে হাজার হাজার আফগানও দেশ ছাড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। প্রায় ২২ লাখ আফগান ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এবং আরও প্রায় ৩৫ লাখ আফগান দেশের সীমানার মধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ঠিক কত আফগান দেশ ছেড়েছে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এ মুহূর্তে

 বলা কঠিন, কিন্তু বিমানে করে কতজন দেশ ছেড়েছে তার কিছু হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৮০ হাজারের মতো ব্যক্তিকে কাবুল বিমানবন্দর ব্যবহার করে সরিয়ে এনেছে। ১৪ আগস্টের পর থেকে আফগানিস্তানে কেবলমাত্র এই বিমানবন্দরটিই সক্রিয় আছে। তবে এই ৮০ হাজারের মধ্যে কতজন আফগান নাগরিক তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো নেই। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়েছে এবং এর মধ্যে আফগান নাগরিকের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। এ ছাড়া জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সাড়ে ৪ হাজার ব্যক্তিকে কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে সরিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৭০০ জনই আফগান। তবে সরিয়ে নেওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে কিছু স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীও রয়েছেন। আর সরিয়ে নেওয়া আফগানদের মধ্যে অর্ধেকই নারী ও শিশু। বিমানে করে কাবুল থেকে সরিয়ে আনার কার্যক্রম গত কয়েক দিনে বেশ গতি পেয়েছে। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার জন্য অনুমতি পেয়েছে এমন আফগানদের জন্যও এটা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ তালেবান বলছে তারা চায় না আফগানরা দেশ ত্যাগ করুক। তবে এটাও পরিষ্কার নয় যে, ঠিক কত সংখ্যক আফগান দেশ ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির হিসাবে, ২০০১ সালের পর থেকে প্রায় ৩ লাখ আফগান নাগরিক মার্কিন অভিযানে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং এর মধ্যে অনেকেই মার্কিন ভিসা পাওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার যোগ্য এমন ২ হাজার আফগানকে এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি বলে বিবিসিকে জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর