শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:১৫

দুই দলের ভাবনায় ইসি পুনর্গঠন

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চায় বিএনপি

মাহমুদ আজহার

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চায় বিএনপি
Google News

নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে একটি নিরপেক্ষ সরকার চায় বিএনপি। দলটি মনে করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব। আর তেমন একটি নির্বাচন কমিশনের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হতে পারে। না হলে আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটি করুক বা নতুন আইনই করুক, তাতে একটি গ্রহণযোগ্য ইসি গঠন হবে না। সুষ্ঠু ভোটের পথ সুগম হবে না।

দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বসতে চায় বিএনপি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক হলে সেখানে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাবের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরবেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে সংলাপের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। সর্বশেষ ২০১৭ সালে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন  করা হয়। আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নাম চূড়ান্ত করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপেও বসেছিল তারা। যদিও ওই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি দাবি বিএনপির। এ প্রসঙ্গে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান চাই। তবে এর আগে নিরপেক্ষ সরকার চাই যাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ সমাধান হতে হবে। এজন্য দেশের গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিতে হবে। কাজটি এমনভাবে করতে হবে যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। বিগত দিনের মতো একতরফা হলে কেউ মেনে নেবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলীয় ফোরামে আলোচনার পর আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আমাদের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে দেব। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশের জনগণ এ সরকারের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করে না।’ বিএনপিসূত্র জানান, এবার একতরফা নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তা মানবে না বিএনপি। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনে যাবে। এ নিয়ে ২০-দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিএনপি। এ ইস্যুতে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক প্ল্যাটফরমে চায় বিএনপি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব, মতামত ও সংলাপের ভিত্তিতে ‘নিরপেক্ষ ও কার্যকর’ নির্বাচন কমিশন চায় দলটি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ইসি গঠনে সরকারের ওপর চাপ তৈরিতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও দলটি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মাঠেও এ দাবিতে সোচ্চার হবে তারা। এরই মধ্যে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে তাদের মতামত তুলে ধরছে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রস্তাবে বিএনপি সাবেক একজন প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যারা নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করবেন। তাদের মধ্য থেকে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিএনপির অভিযোগ, সে প্রস্তাব রাখা হয়নি। বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, শুরু থেকেই বর্তমান কমিশনের ওপর অনাস্থা জানিয়ে আসছে বিএনপি। ইতিমধ্যে এ কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি। নতুন যে কমিশন গঠন করা হবে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতার বিষয়ে অন্যান্য বিরোধী দলকেও পাশে চায় দলটি। এ ইস্যুতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। ইসি পুনর্গঠনের আগে নিবন্ধিত দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান কমিশন বারবার প্রমাণ দিয়েছে তাদের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই জনগণ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করে। এজন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারও জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় ইসি গঠন হয় তাতে তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে জনগণের সামনে তা উপস্থাপন করা হবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে দলের করণীয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ কমিশন। শুধু আমরা নই, দেশবাসীর চাওয়াও একই। এ দাবি আমরা আগে থেকেই জানিয়ে আসছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। দলীয় কমিশন হলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হয় তা আমরা কয়েক বছর ধরে দেখছি। সুতরাং সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার জরুরি। একইভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও অতি জরুরি।’