Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:১৯

বৈশাখী খাওয়ায় সচেতনতা

বৈশাখী খাওয়ায় সচেতনতা
সাদা আর লালের বৈশাখী উৎসবে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার পাশাপাশি থাকে নানারকম খাবারের আয়োজন। আর সে আয়োজনে একটু সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়...

 

পুষ্টি প্রতিদিনের অত্যাবশ্যকীয় বিজ্ঞান।  যে কোনো দিনই মানুষকে তার পুষ্টির কথা মাথায় রেখে খাবার খেতে হয়। বৈশাখের আনন্দকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করতে তাই মাথায় পুষ্টির কথা রেখেই খাবার খেতে হবে।

 

কার্বোহাইড্রেট

বৈশাখে নানারকম কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া হয়। পান্তা ভাত হলো কার্বোহাইড্রেটের সবচেয়ে বড় উপাদান। পান্তা ভাতে ক্যালোরি বেশি থাকে। কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি ভিটামিনের খুব ভালো উৎস হলো পান্তা ভাত। সহজে হজমযোগ্য এই পান্তা সবাই খেতে পারলেও যাদের ওজন বেশি এবং যাদের রক্তে গ্লুকোজ অনেক বেশি তারা একটু সাবধানে পরিমিত পান্তা ভাত খাওয়াই ভালো। মনে রাখবেন গরম পান্তা ভাতের গ্লাইসেমিক সূচক ঠাণ্ডা পান্তা ভাতের তুলনায় বেশি। পান্তা ছাড়াও চিড়া, মুড়ি, খই পয়লা বৈশাখের জন্য অনেক ভালো কার্বোহাইড্রেট। তবে নানা জাতীয় মিষ্টান্ন, পিঠা, মোয়া, নাড়ু থেকেও প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। মিষ্টান্নগুলো থেকে প্রচুর ক্যালোরিও আসে। স্বাস্থ্য বিবেচনায় যে কোনো মিষ্টান্ন তৈরিতে সাদা চিনির পরিবর্তে গুড়ের ব্যবহার কিছুটা উপকারী। মিষ্টান্ন ঘরে তৈরি করলে তাতে তীব্র মিষ্টি না দিয়ে হালকা মিষ্টি দিয়ে তৈরি করুন।

 

প্রোটিন

বাঙালির পয়লা বৈশাখ মানে ইলিশ মাছ, যা প্রোটিনের অনেক ভালো উৎস। ভাজা ইলিশ মাছ স্বাদের হলেও যাদের খাবারে বিধিনিষেধ থাকে তারা ভাজা না খেয়ে সরষে ইলিশ, ভাপে ইলিশ বা চালকুমড়া ইলিশও খেতে পারেন। ইলিশ ছাড়াও ছোট মাছ ও মুরগির নানা রেসিপি পয়লা বৈশাখে ঘরে তৈরি করা যায়। এগুলো প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে। এছাড়া প্রোটিন বহুল আরেকটি খাবার হলো ডাল। কাঁচা আমের ডাল, ডাল চচ্চরি, ডালের বড়ি, ভর্তা, মাছের মাথায় ডালের মুড়িঘণ্ট, ঘন ডাল বাঙালির অতি পরিচিত প্রোটিন বহুল খাবার। ডালের তৈরি খাবার রান্নায় তেল কম লাগে। তাই এটি উপকারী।

 

ফ্যাট

বাঙালির ঘরে তৈরি বৈশাখী খাবার, সাধারণত দেশীয় আঙ্গিকে তৈরি হলে তাতে কম পরিমাণে ফ্যাট থাকে। কিন্তু নতুন বছরে কেউ মোগলাই খাবার তৈরি করলে তখন চর্বির পরিমাণ বেশি হয়। যেমন- পোলাও, বিরানি, রোস্ট, রেজালা ইত্যাদি। এছাড়া মিষ্টান্ন তৈরিতে ঘির ব্যবহার বা তেলে ভাজা হলে তখন চর্বি বেশি খাওয়া হয়। তাই বৈশাখে বাঙালির স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- পাতলা ঝোলের তরকারি, ভর্তা ইত্যাদি খেলে চর্বি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

ভিটামিন ও মিনারেলস

পয়লা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ ফল। যেমন- বাঙ্গি, কাঁচা আম, তরমুজ, আনারস ইত্যাদি দেশীয় ফল স্বাস্থ্যকর তেমনি ভিটামিনস ও মিনারেলসে সমৃদ্ধ। এছাড়া সজনে, লতি, ডাটা শাক, হেলেঞ্চা, ঢেঁড়শ ছাড়াও নানারকম শাক-সবজি পয়লা বৈশাখের মেন্যুতে খাওয়া যেতে পারে। শাক ও মাছের পাতুরি, সবজি নিরামিষ, শাক, সবজি ভর্তা বা বড়া ইত্যাদি নানা আয়োজন করা হয় বৈশাখের খাবারে। ফলের মধ্যে কাঁচা আমের ভর্তা, বাঙ্গির শরবত, তরমুজের জুস বা কাঁচা তরমুজ বৈশাখের পরিচিত খাবার।

 

তরল

বাঙালি ঐতিহ্যের একটি বড়দিন হলো পয়লা বৈশাখ। সারা দিন ঘোরাঘুরিতে যাতে কোনোভাবেই পানিশূন্যতা না হয়, সে বিষয়টি ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে। পানি হলো হাইড্রেট রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যোপাদান। পাশাপাশি বৈশাখে চলে কাঁচা আমের জুস, বাঙ্গির জুস, তরমুজের জুস, ডাবের পানি, লেবু পানি, জিরা পানি, তেঁতুলের শরবত, দইয়ের লাচ্ছি ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর এই তরলগুলো শরীরকে চাঙ্গা রাখে। শরীরের লবণ ও পানির ঘাটতি পূরণ করে। এগুলো ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রেখে আপনাকে সজিব করতে সাহায্য করবে।

 

লেখক :

তামান্না চৌধুরী

প্রধান পুষ্টিবিদ, এ্যাপোলো হাসপাতাল।


আপনার মন্তব্য