শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

আসামে বন্ধ হচ্ছে সরকারি মাদ্রাসা, সংস্কৃত টোল

রাজ্যটিতে প্রায় ১২০০ মাদ্রাসা ও ২০০ সংস্কৃত টোল আছে

আসামে বন্ধ হচ্ছে সরকারি মাদ্রাসা, সংস্কৃত টোল

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আসাম সরকার। জনগণের অর্থে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন আসামের প্রভাবশালী শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বুধবার এক অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘কেউ যদি ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে চান, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু সরকারি অর্থে সেটা চলতে পারে না।’ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দিয়ে সেগুলোকে হাইস্কুলে পরিণত করা হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসা বা টোলগুলোতে যারা ধর্মশিক্ষা দেন, তাদের যত দিন চাকরি বাকি আছে, তত দিনই মাসে মাসে বেতন পাবেন, আর যারা অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন, তাদের স্কুলে পড়াতে হবে। বিশ্বশর্মা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। সংস্কৃত টোলও তো বন্ধ করা হচ্ছে!’

তার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসাম সংখ্যালঘু ছাত্র ইউনিয়ন বা আমসুর প্রধান রেজাউল করিম সরকার বলেন, ‘তিনি মুখে যতই বলুন না কেন যে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বিশ্বশর্মার টার্গেট হচ্ছে মুসলমানরা।’

আসামে কীভাবে মুসলমানদের কোণঠাসা করে দেওয়া যায়, সেই কাজই তিনি করে চলেছেন একের পর এক- তা সে এনআরসি হোক বা মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, ‘টোল বা মাদ্রাসাগুলো বন্ধ না করে  সেগুলোকে উন্নত করার কথা কেন ভাবা হলো না? যে ধর্মীয় শিক্ষা তো টোল বা মাদ্রাসাতে দেওয়া হয়, তা তো আসলে সুস্থ সমাজ গড়ার জন্য, যেখানে কোনো হিংসা বা দ্বেষ থাকবে না।’ সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে সরকার চাইছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বিদ্বেষ ছড়াক আর তা থেকে আগামী বছরের নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ হোক।’ আসামে এখন ৬১৪টি স্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো পরিচালনা করে রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী শর্মা এনডিটিভিকে বলেন, ‘আসামে  প্রায় ১২০০ মাদ্রাসা ও ২০০ সংস্কৃত টোল আছে, কিন্তু এগুলো পরিচালনা করার মতো স্বতন্ত্র কোনো বোর্ড নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজন ম্যাট্রিকুলেশন বা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সমমানের সার্টিফিকেট পাওয়ায়   অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই রাজ্য সরকার সব মাদ্রাসা ও সংস্কৃত টোলকে নিয়মিত স্কুলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এর পাশাপাশি রাজ্যটিতে প্রায় দুই হাজার বেসরকারি মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর বিধিবিধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


আপনার মন্তব্য