বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক তালেবানের

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক তালেবানের

সুহেল শাহিন - ওয়াং ই

আফগানিস্তানে টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল তালেবানের প্রতিনিধি দল। আফগানিস্তানে বর্তমান পরিস্থিতি ও উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। এ ছাড়াও শান্তিপ্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কথা হয়। তালেবান দলটি মূলত দুই দিনের সফরে চীনে গেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে তালেবান বুঝাতে চেয়েছে তারা আফগানিস্তানের ক্ষমতা যে কোনো সময় নিতে পারে। এ জন্য তারা তাদের পররাষ্ট্র নীতিও এগিয়ে নিচ্ছে। হংকংয়ে অবস্থিত চীনা সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ সূত্রে খবর, গতকাল উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরে তালেবানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী আবদুল ঘানি বারাদার ও মুখপাত্র সুহেল শাহিনের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বলে রাখা ভালো, তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান হচ্ছে আবদুল ঘানি বারাদার। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় মুখ্য ভূমিকা ছিল তার।

এদিকে তালেবান মুখপাত্র মুহাম্মদ নাঈম বলেছেন, চীনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণেই তালেবান এই সফর করেছে। সূত্রের খবর, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তিবৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বেইজিং। শি জিন পিং প্রশাসনের আশঙ্কা, চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে পৃথক উইঘুর রাষ্ট্র গঠনের লড়াইয়ে ‘ইস্টার্ন তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট’ গোষ্ঠীটিকে মদদ দিতে পারে তালেবানের একাংশ। তাই উইঘুরদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তির কথা তালেবানের কাছে স্পষ্ট করেছে চীন বলেই মত। গত জুন মাসেও পাকিস্তান ও আফগান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তালেবানকে রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে যথাসাধ্য চেষ্টা করার কথা ঘোষণা করে চীন।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রভাব খর্ব করতে তালেবান জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তান বলে স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ জানিয়েছে আফগান প্রশাসন। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান মতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত লড়াইয়ে অন্তত ১ হাজার ৬৫৯ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৫৪ জন। উল্লেখ্য, মার্কিন সেনা সরতেই আফগানিস্তানে তুমুল লড়াই শুরু করেছে তালেবান। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে জেহাদি সংগঠনটি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আফগান সরকারি বাহিনীর বহু সৈনিক প্রাণ বাঁচাতে তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে কাবুলের পতন সময়ের অপেক্ষা মাত্র বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুধু চীন নয়, নিজেদের ভিত্তি আরও শক্ত করতে নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর কাতারে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে। শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে সেখানে বহুবার আলোচনা করেছে তালেবান। চলতি মাসেই ইরানে আফগান সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা আছে তালেবানের।