শিরোনাম
শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

তাইওয়ান রক্ষার দায়িত্ব নিল যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ান রক্ষার দায়িত্ব নিল যুক্তরাষ্ট্র

জো বাইডেন

সম্প্রতি চীনের জাতীয় দিবসে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঘোষণা দিয়েছেন তাইওয়ান চীনের অংশ এবং যে কোনো মুহূর্তে তা দখল করা হবে। আর তাই তো প্রায়ই তাইওয়ানের আকাশে শত শত চীনের আধুনিক যুদ্ধবিমান চক্কর দেয়। এর জবাবে তাইওয়ানের ভাষ্য, তারা কোনোক্রমেই চীনের অংশ নয় এবং চীনের অধীনে থাকতেও চায় না। ফলে দিন দিন তাইওয়ানে চীনের আক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় তাইওয়ানকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। বেইজিং-তাইপের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বাইডেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কী বলছেন যে, চীন হামলা করলে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য মার্কিন সেনারা এগিয়ে যাবে? জবাবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন- ‘হ্যাঁ, তাইওয়ানের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে।’

উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে নিজের ভূখন্ড মনে করে চীন এবং তাইওয়ানের ওপর পরিপূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে বেইজিং। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ চীনের এই নীতিকে সমর্থন করে আসছে। আমেরিকাও সব সময় এক চীন নীতিকে সমর্থন দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার বাইডেনকে আবার জিজ্ঞাসা করেন, চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে তিনি কী করবেন? জবাবে বাইডেন বলেন, তারা বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, ‘চীন, রাশিয়া ও বাকি বিশ্ব জানে, বিশ্বের ইতিহাসে আমাদের সেনাবাহিনীই সবচেয়ে শক্তিশালী।’ বাইডেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা ও ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের রক্ষা করার জন্য যেমন একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে ঠিক তেমনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানের সঙ্গেও রয়েছে। বাইডেন এও বলেন, চীনের সঙ্গে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু করতে চান না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি শুধু চীনকে বোঝাতে চাই যে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না।’

চীনের প্রতিক্রিয়া : তাইওয়ান নিয়ে বাইডেনের মন্তব্যের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমঝোতার কোনো জায়গা নেই। গতকাল তারা আরও বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাইওয়ানের স্বাধীনতার সমর্থকদের কোনো ভুল সংকেত পাঠানো বন্ধ করতে হবে। বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, চীনের মূল স্বার্থের ক্ষেত্রে ছাড়ের কোনো জায়গা নেই।

সর্বশেষ খবর