ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৯০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভ এবং আরও কয়েকটি লক্ষ্যে এসব হামলা চালানো হয়। মস্কোর দাবি, সম্প্রতি তাদের বেসামরিক অবকাঠামোয় ইউক্রেইনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক্সে এক পোস্টে জানান, রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুসহ পাঁচজন খারকিভ অঞ্চলের আর দুজন কিয়েভ অঞ্চলের। বাকিরা অন্যান্য অঞ্চলের। এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।-রয়টার্স এর আগে রাতভর সম্ভাব্য আকাশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের ছয় মাসের মেয়াদ শুরু উপলক্ষে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কিয়েভে হামলার খবর পেয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে যান। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, রাজধানীর একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় সেটির ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কিয়েভে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবাকর্মীরা ধসে পড়া একটি নয় তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে। রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকা জানান, কিয়েভে হামলায় দুই শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছে এবং শহরের তিন ডজন স্থান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৈমুর তকাচেনকা বলেন, ‘শত্রু পক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে।’
এর আগের একটি পোস্টে মেয়র ক্লিৎসকো জানিয়েছিলেন, আহতদের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের প্যারামেডিক এবং চালকেরাও রয়েছেন। কিছু মানুষ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ভিতরে আটকা পড়ে আছেন। অনলাইনে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলের শেভচেঙ্কো বুলেভার্ডের একটি ভবনের চূড়ায় আগুন জ্বলছে। শহরের অন্য অংশে ভবনের জানালা ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর চারপাশের অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে জানিয়েছে, সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই ইউক্রেইনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলা। রাতভর দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চলে আকাশ হামলার সতর্কতা জারি করায় মানুষজন শিশু, আসবাবপত্র, তাঁবু এবং পোষা প্রাণীগুলোকে নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা জাপান সফরকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের জন্য বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরি করবেন না! কিয়েভ এক ভয়াবহ রাত পার করার পর আমাদের অংশীদারদের কাছে এটিই প্রধান অনুরোধ।’ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের আলোচনার প্রস্তাব ক্রেমলিন প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে ইউক্রেনীয় হামলা রাশিয়ার ভূখন্ডের গভীরে জোরদার হওয়ায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে পরিশোধিত জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়া ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে। মস্কো থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের নভোসিবিরস্ক অঞ্চলের জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোকে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেইনীয় ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে।