সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)। গতকাল অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বিসিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। সেই চিঠিতে শুল্ক-কর কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। এতে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকারে কাস্টমস ডিউটি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ, জিপসামে ইনভয়েস মূল্য ধরে শুল্কায়ন, লাইমস্টোনের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ভ্যাট নির্ধারণে ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস ডিউটি প্রসঙ্গে বিসিএমএর চিঠিতে বলা হয়েছে, সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর কাস্টমস ডিউটি বর্তমানে অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর ১৫ শতাংশ ধরা হয়। কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ওপর ডিউটি সাধারণত আমদানি মূল্য অথবা অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ৫ শতাংশ হয়। এ ক্ষেত্রে ক্লিংকারের ওপর ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি সিমেন্ট শিল্পমালিকদের নিকট মাত্রাতিরিক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি মেট্রিক টন ক্লিংকারের কাস্টমস ডিউটি ৭০০ টাকা আদায় করা হতো। ২০২৬-২৭ অর্থবছর হতে তা ৫০০ টাকা করা হোক। অগ্রিম আয়কর প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমদানি পর্যায়ে কাঁচামালের ওপর আয়কর ধার্য করা হবে। যা সিমেন্ট ক্লিংকারে ২ শতাংশ, স্লাগে ৩ শতাংশ, লাইমস্টোনে ৪ শতাংশ, ফ্লাই অ্যাশে ৩ শতাংশ এবং জিপসামে ৪ শতাংশ। আমদানি ছাড়াও সিমেন্টের বিক্রয় পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ধার্য করা হচ্ছে। অগ্রিম আয়কর এখন ফেরত ও সমন্বয়যোগ্য হলেও এর হার (২-৪ শতাংশ) এত বেশি যে সিমেন্ট শিল্পের জন্য নগদ প্রবাহে সমস্যা দেখা যায়। তাই অগ্রিম আয়কর আমদানি ও বিক্রি পর্যায়ে ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকা যৌক্তিক। চিঠিতে বিসিএমএ সভাপতি আমিরুল হক আরও বলেন, সিমেন্ট ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামে আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাসেসেবল ভ্যালু ধরে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। তাই এই পাঁচটি কাঁচামালের ক্ষেত্রে ইনভয়েস মূল্য ধরে শুল্কায়ন করা হোক।
লাইমস্টোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, সাধারণত বিলাসদ্রব্য এবং আমদানি নিরুৎসাহিত দ্রব্যের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়। লাইমস্টোন সিমেন্ট শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি হতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা হয়, যা এখনো বিদ্যমান। সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে এ সম্পূরক শুল্ক আদায় সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। চিঠিতে সিমেন্ট শিল্পের জন্য ভ্যাট নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ সব সিমেন্ট উৎপাদনকারীর কাছ থেকে একই হারে প্রতি টনে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।