স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল গত বছরের মতো বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন করবর্ষ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ করদাতা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নির্দিষ্ট পাঁচটি শ্রেণিকে এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা কর রেয়াত বা প্রণোদনা পাবেন, অন্যদিকে সময় পার হয়ে গেলে গুনতে হবে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা।
সম্প্রতি এনবিআরের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮-এর উপ-ধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে জানানো হয়, পাঁচ শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে তারা চাইলে রিটার্ন দিতে পারবেন। এর মধ্যে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (উপযুক্ত সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে), বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে তার আইনি প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা। এই পাঁচ শ্রেণির করদাতারা ইচ্ছা করলে অনলাইনেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো করদাতা যদি প্রযুক্তিগত বা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দিতে না পারেন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করতে পারবেন। অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে করদাতা কাগজে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণিতে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকছে। প্রথম প্রান্তিকে জমা দিলে ছাড় দেওয়া হবে। এজন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশোধন আনা হয়। সেই হিসাবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার প্রথম প্রান্তিক যদি ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হয়, তাহলে ‘দ্রুত’ রিটার্ন দাখিলের জন্য ৫ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন। তবে ছাড়ের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। কোনো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে ছাড় পাবেন না। তবে অতিরিক্ত করও দিতে হবে না। যদি তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেন তখন, ‘বিলম্বে’ রিটার্ন দাখিলের কারণে ধারা ১৭৩ এর উপধারা ২ অনুসারে জরিমানা দিতে হবে।
সেই জরিমানা হবে করের দুই শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। শেষ প্রান্তিক বা ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দাখিলের কারণে ধারা ১৭৩-এর উপধারা ২ অনুসারে জরিমানা হবে করের পাঁচ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন করদাতা স্বাভাবিক নিয়মে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এর মধ্যে দাখিল করলে বাড়তি কর দিতে হয় না। এখনকার নিয়মে প্রণোদনারও সুযোগ নাই। চলতি করবর্ষে সবার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করায় বারবার সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছিল।