তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন মো. হারুন হাওলাদার (৬০)। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশেই মাছির অস্বাভাবিক আনাগোনা দেখে সন্দেহ হয় স্বজনদের। সেখানে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একটি হাত। পরে পুলিশ এসে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। গতকাল সকালে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪২) পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
নিহতের ছেলে এইচ এম জাফর হাওলাদার জানান, শনিবার রাত থেকে তার বাবা নিখোঁজ ছিলেন। তার মা জানান, গভীর রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বাবাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যান তারা। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বাবার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় থানায় অপহরণের অভিযোগও করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, গতকাল সকালে রান্নাঘরের পাশের একটি স্থানে অস্বাভাবিকভাবে মাছি উড়তে দেখে সন্দেহ হয়। পরে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করলে একটি হাত বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। জাফরের দাবি, নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ তার মাকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। মোবাইল ফোনের কল লিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের পর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, মা এবং তার প্রেমিক মিলে বাবাকে হত্যা করেছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কারও পরিচয় বলতে রাজি হননি জাফর। মুলাদী থানার ওসি কে এম সোহেল রানা বলেন, হারুন হাওলাদারের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।