মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, শ্রমিকদের ধর্মঘট-অবরোধসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দরে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস।
একই সময়ে কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।
জাহাজ হ্যান্ডলিংও বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।
এ অর্জনকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন,২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রতিটি সূচকে অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করতে পেরেছি। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বছর আমাদের রাজস্ব আদায়ে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বন্দর সব সূচকেই আগের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। রাজস্ব আদায়েও ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তিনি বলেন, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য এসেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে আয়কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে।
দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে অর্থবছরজুড়ে বিভিন্ন কারণে বন্দরকে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করে ফেব্রুয়ারিতে শ্রমিকদের ধর্মঘটে কয়েক দিন বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর আগে অক্টোবরে বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস