হিমাগার ভাড়া কমানো এবং আলুর ন্যায্য মূল্যের দাবিতে কাফনের কাপড় পড়ে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছেন রংপুরের আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ৩ শতাধিক চাষি অংশ নিয়েছেন।
চাষিরা জানান, চলতি বছর আলুর উৎপাদন খরচ বেশি এবং বাজারে আলুর দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছে চাষিরা। এ বছর ২৪ শতক জমিতে আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। আলু উত্তোলন ও পরিবহনে খরচ কেজি প্রতি ১ টাকা। আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া দ্বিগুণ করে বস্তাপ্রতি ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে হিমাগার মালিকরা।
এতে করে প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার খরচ ৬ টাকা ৯৮ পয়সা পড়ে। সবমিলে এক কেজি আলুর দাম পড়ে ২৪ টাকা। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ফলে প্রতি কেজি আলুতে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করে ক্ষতির মুখে পড়ছে চাষিরা।
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগার মালিকরা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই একতরফাভাবে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) আলুর ভাড়া ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। অথচ গত মৌসুমে এ ভাড়া অনেক কম ছিল। কৃষকদের দাবি, প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার মালিকদের খরচ হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সেই হিসেবে ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা যৌক্তিক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি মানা না হলে আগামী ১৫ জুলাই থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান
বিডি প্রতিদিন/এমআই